উজবেকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে যাওয়ার এক দিন আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সকে নিয়ে বাফুফেতে চলছে ধোঁয়াশা। তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বরং জেরার্ড নিজেই বরখাস্তের খবর অস্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বাফুফে ভবনে অনূর্ধ্ব-২০ দলের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ আগে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে সেটি বাতিল করা হয়। সংবাদ সম্মেলন বাতিলের কারণ স্পষ্ট না করায় কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন আরও বেড়েছে।
এর মধ্যেই কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বাফুফের সূত্রের বরাত দিয়ে জেরার্ডকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবর প্রকাশ করেছে। এমনকি তাঁর জায়গায় সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু দায়িত্ব নিতে পারেন বলেও খবর এসেছে।
তবে জেরার্ডের বক্তব্য ভিন্ন। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, বাফুফে তাঁকে বরখাস্তের বিষয়ে কিছু জানায়নি। ফলে একই সময়ে দুই ধরনের তথ্য সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
জেরার্ডকে ঘিরে বিতর্কের শুরু অবশ্য আরও আগে। গত জুনে দুই বছরের চুক্তিতে অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেতন ও নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। এরপর টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন এই ইংলিশ কোচ।
সোমবার রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় জেরার্ড আবারও কর্মক্ষেত্রে হামলার অভিযোগ তোলেন। নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কার কথা জানান তিনি। এ ঘটনায় বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির তদন্তও চলছিল।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন এখন একটাই—জেরার্ড জোন্স কি সত্যিই দলের সঙ্গে উজবেকিস্তান যাচ্ছেন, নাকি শেষ মুহূর্তে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে? বাফুফের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সেই উত্তর মিলছে না।
আগামীকাল বুধবার উজবেকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশ দলের। ৩১ আগস্ট শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার ঠিক আগে কোচকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা তাই দলের প্রস্তুতিকেও ফেলেছে প্রশ্নের মুখে।