শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্ন দিয়ে, শেষটায় অন্তত গোল হজম না করার স্বস্তি। এশিয়ান গেমসে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ। জাপানের নাগাই স্টেডিয়ামে সোমবার ৯০ মিনিটে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত জালের দেখা পায়নি কেউ। তাতেই এক পয়েন্ট নিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস-যাত্রা।
গ্রুপ ‘এফ’-এর প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০–০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল মেয়েদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরাজয়। তিন দিন পর দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও একই চিত্র—৬–০ গোলে হার। দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করেও একবারও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেনি দল। আজ জিতলে অবশ্য সমীকরণের মারপ্যাচে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা থাকত।
মিয়ানমারের বিপক্ষে তাই লক্ষ্য ছিল অন্তত ভালোভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করা। শুরুতে অবশ্য বাংলাদেশকে চাপে রাখে মিয়ানমার। দ্বিতীয় মিনিটেই পরপর দুটি শট নেয় তারা। একবার বাংলাদেশের গোলরক্ষককে পরীক্ষা দিতে হয়, অন্য শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২০ মিনিটে মিয়ানমারের আরেকটি শট ব্লক হয়ে যায়। বাংলাদেশও নিজেদের সুযোগ পেয়েছে। ১৯ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের ফ্রি-কিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, ২৭ মিনিটে কর্নার আদায় করে দল। ৪০ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার শটও লক্ষ্যে থাকেনি।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। বরং শেষ দিকে মিয়ানমার চাপ বাড়ায়। ৭৭ মিনিটে তাদের একটি শট ঠেকান বাংলাদেশের গোলরক্ষক। পরের মিনিটেই দুটি শট ব্লক হয়ে যায়। একের পর এক কর্নার থেকেও সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছে মিয়ানমার।
বাংলাদেশও হাল ছাড়েনি। ৮৫ মিনিটে কর্নার আদায় করে। এক মিনিট পর ঋতুপর্ণার শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে। এরপর সেই আক্রমণ থেকেই বাংলাদেশের অফসাইড হয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে মিয়ানমার আরও কয়েকবার আক্রমণ করলেও বাংলাদেশের রক্ষণ এবার আর ভাঙেনি।
শেষ বাঁশিতে তাই স্কোর ০–০। দুই পরাজয়ের পর অন্তত হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পেরেছে বাংলাদেশ।