এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের স্মৃতি এখনো তাজা। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুই লেগের দুটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচই বাংলাদেশের কাছে একরাশ হতাশা আর আক্ষেপের গল্প হয়ে আছে। ছয় মাসের মধ্যে আবারও সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।
এবার মঞ্চটা ভিন্ন। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে আজ বেলা ৩টায়। ফিফা আসিয়ান কাপে দুই দলেরই শুরুটা হয়েছে বাজে। ইন্দোনেশিয়ার কাছে সিঙ্গাপুর হেরেছে ২-০ গোলে। আর মালয়েশিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে হেরে শুরু করেছে বাংলাদেশ। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দুই দলই চাইবে ঘুরে দাঁড়াতে। তবে বাংলাদেশের কাছে ম্যাচটা প্রতিশোধেরও।
গত বছরের জুনে ঘরের মাঠে গ্যালারিপূর্ণ স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচেই বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় কানাডাপ্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোমের। গত মার্চে ফিরতি দেখা ১-০ গোলের হার। ক্ষতটা তাঁর কাছে একটু বেশি। গতকাল অনুশীলনের আগে শমিত বলেন, ‘ওদের কাছে এক বছরের মধ্যে আমরা দুবার হেরেছি। একটু প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা আছে। আর ফিফা আসিয়ান কাপে ঘুরে দাঁড়ানোর খুব ভালো একটা সুযোগ।’
প্রতিশোধের ম্যাচের আগে বাংলাদেশকে বদলাতে হবে নিজেদের খেলার ধরনও, যে ফুটবল নিয়ে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছিল মাথা নিচু করে। ৩-০ ব্যবধানে হারের পর কোচ টমাস ডুলি সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট ছিলেন দলের মানসিকতা নিয়ে। প্রতিপক্ষকে যেসব সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তাঁর চোখে ছিল নিজেদের উপহার। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিনি দেখতে চান আক্রমণাত্মক বাংলাদেশকে, ‘আমাদের আক্রমণভাবে খেলতে হবে—প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের বিপক্ষে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, সামনের দিকে খেলতে চাইতে হবে। আমি একটি আগ্রাসী ফরমেশন দেখতে চাই।’
ডুলি বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছেন গত জুনে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হার দুটি বিশ্লেষণ করে জয়ের ভাবনা কাজ করছে তাঁর মধ্যে। র্যাঙ্কিংয়ে সিঙ্গাপুর ৩৪ ধাপ এগিয়ে থাকলেও সেদিকে চোখ নেই তাঁর, ‘ওই দুটি ম্যাচ আমরাও জিততে পারতাম। তার মানে, দল দুটি সমমানের। খেলোয়াড়দের ইতিমধ্যে বলেছি যে ভিন্ন মানসিকতা, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খেলতে হবে এবং ম্যাচটি জিততে চাই। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে কতটা ওপরে আছে, তা নিয়ে ভাবি না।’
সিঙ্গাপুরের খেলার অন্যতম শক্তি তাদের মাঝমাঠ। কিয়োগা নাকামুরা সেখানে খেলা গুছিয়ে দেন, আর দু-তিনটি পজিশনে দ্রুত বদল এনে প্রতিপক্ষের ছন্দ ভেঙে দিতে পারে সিঙ্গাপুর। আক্রমণে ত্রাস সৃষ্টি করেন ইখসান-ইলহান ফান্দিরা। প্রতি আক্রমণেও শক্তিশালী তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হামজা চৌধুরী। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ে তাঁর উপস্থিতি ছিল, কিন্তু আরও বাড়তি প্রত্যাশা থাকবে তাঁকে ঘিরে। হামজার জানার কথা, এই সিঙ্গাপুরকে কীভাবে ঘায়েল করতে হয়।
সিঙ্গাপুরও হামজাকে ঘিরে আলাদাভাবে ভাবছে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে উন্মুখ তারা। দলের কোচ গ্যাভিন লি বলেন, ‘আমাদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে—এমন বিষয় সরিয়ে রেখে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। প্রথম বাঁশি থেকে নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে হবে, একসঙ্গে থাকতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত যেসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, সেগুলোর ওপরই মনোযোগ দিতে হবে।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশ নিয়ে সমালোচনায় পড়তে হয়েছিল ডুলিকে। আজ কিছু পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছেন। অভিষেকের ঝলক দেখানো জিদান ইউসুফকে রাখবেন শুরুর একাদশে। কপাল পুড়তে পারে মালয়েশিয়াকে একাধিক গোল উপহার দেওয়া শাকিল আহাদ তপুর। মাঠে দেখা যেতে পারে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকেও। এসব পরিবর্তন কি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের গল্প বদলাতে পারবে?