লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। বুধবার ভোরে বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নামবেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে তাঁর উত্তরাধিকার এবং মাঠ ও মাঠের বাইরে তাঁর প্রভাব নিয়ে আবেগঘন কথা বলেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
আজ ভোরে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে মেসির বিদায় প্রসঙ্গে কথা বলেন স্কালোনি। তাঁর কাছে তারকা ফরোয়ার্ড শুধু একজন ফুটবলার নন। জাতীয় দলের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক এবং সতীর্থদের ওপর তাঁর প্রভাবও আলাদা।
স্কালোনি বলেন, ‘তাঁর উত্তরাধিকার হলো সব সময় সেখানে থাকার অদম্য ইচ্ছা। তিনি সব সময় সবার আগে আসতেন এবং সবার শেষে বের হতেন। নিজের যত্ন নেওয়ার ধরন, প্রতিটি ম্যাচের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। এসব বিষয় হয়তো অন্যরা দেখতে পায় না, কিন্তু তাঁর সতীর্থরা ঠিকই দেখে। এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর হতে পারে না। তিনি এমন কিছু রেখে যাচ্ছেন, যার কোনো তুলনা নেই।’
মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে মনুমেন্তালে তৈরি হয়েছে বিশেষ আবহ। স্টেডিয়ামে জায়গা থাকলে আরও দর্শক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে চাইতেন বলে মনে করেন স্কালোনি, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্তালও থাকত, সেগুলো পূর্ণ হয়ে যেত। আমি সব জায়গা থেকে বার্তা পেয়েছি। আমার মনে হয়, সবকিছুই বলা হয়ে গেছে। এখন শুধু উপভোগ করার পালা। আমরা সব সময় যে শূন্যতার কথা বলি, তিনি চলে গেলে সেটাই থাকবে। আর এবার তিনি এখানে থাকবেন না।’
মেসির শেষ ম্যাচের আবেগ স্কালোনিকেও ছুঁয়ে যাবে। ২০১৮ সাল থেকে তাঁর কোচিংয়ে খেলছেন এলএমটেন। দুজনে জুটি বেধে আর্জেন্টিনাকে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন।
বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়বে। মেসিও। তিনি মনুমেন্তালের মাঠে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই দিনটি সবার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই দিনের অংশ হতে পারাটা আমার জন্য কৃতজ্ঞতার বিষয়। তাঁর সঙ্গে আমাদের আরও দুটি অনুশীলন সেশন আছে। যতটুকু সময় বাকি আছে, আমরা সেটুকুই উপভোগ করব।’
মেসি চলে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা নতুন যুগে প্রবেশ করবে। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মেসির জায়গা পূরণ করার বিষয়টি যে সহজ হবে না, সেটি স্পষ্ট স্কালোনির কথাতেই।
স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের খেলতে হবে, আমাদের পথচলা চালিয়ে যেতে হবে। কিন্তু মাঠে তাঁকে থাকার অনুভূতি একেবারেই অনন্য। একটি ফুটবল মাঠে তিনি যে অনুভূতি ছড়িয়ে দেন, তা আমি আর কারও মধ্যে কখনো দেখিনি। আর সেটিই আমরা সবচেয়ে বেশি মিস করব। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল চলতে থাকবে।’