মানিকগঞ্জে বসুন্ধরা কিংসের সহজ জয়, মুন্সিগঞ্জে মোহামেডানের পয়েন্ট হারানো, আর গোপালগঞ্জে শেষ ছয় মিনিটের রোমাঞ্চ। ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ‘বি’ গ্রুপে আজ তিন ভেন্যুতে তিন রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে দলগুলোর। সিটি ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে কিংস। মোহামেডানকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব। আর ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের ম্যাচ শেষ হয়েছে ২-২ গোলে।
সিটি ক্লাবের বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বসুন্ধরা কিংসের হাতে। ১৭ মিনিটে বক্সের মধ্যে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসন রবিনিওকে ফাউল করেন সিটি ক্লাবের গাম্বিয়ান ডিফেন্ডার ফোদে দারবো। পেনাল্টি থেকে গোল করে কিংসকে এগিয়ে দেন রবিনিও। গোলের পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান সিটি ক্লাবের খেলোয়াড়েরা। এর মধ্যে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দলের গোলকিপিং কোচ নুরুজ্জামান নয়ন।
৪০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কিংস। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নেন রাকিব হোসেন। সিটি ক্লাবের গোলরক্ষক ইসহাক আকন্দ ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে হেডে গোল করেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমেকা ওগবুহ। বিরতির পর আর গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কিংস। দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে দলটি।
মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে মোহামেডানের জয়ও একসময় বেশ সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছিল। প্রথমার্ধে পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাবের সঙ্গে গোলশূন্য থাকার পর ৬১ মিনিটে এগিয়ে যায় সাদা-কালোরা। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের ক্রস থেকে নিখুঁত প্লেসিং শটে গোল করেন মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে।
মোহামেডানের সেই স্বস্তি ভেঙে দেন পিডব্লিউডির ক্যামেরুনিয়ান ফরোয়ার্ড ইয়োহান এমবিদা। ৭২ মিনিটে ডান দিক থেকে জুবায়ের আহমেদের ক্রস পেয়ে বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। এরপর শূন্যে শরীর ভাসিয়ে বাইসাইকেল কিকে বল পাঠিয়ে দেন জালে। মোহামেডানের গোলরক্ষক সুজন হোসেন ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি। দৃষ্টিনন্দন গোলটিতে সমতায় ফেরে পিডব্লিউডি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মোহামেডান।
দিনের সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচটি হয়েছে গোপালগঞ্জে, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের মধ্যে। ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ওয়ান্ডারার্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক অ্যাঙ্গুস জন বেইলি। সেই ব্যবধান ধরে রেখেই এগোচ্ছিল দলটি। কিন্তু শেষ দিকে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৮৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আরামবাগকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক মোহাম্মদ রকি। দুই মিনিট পর নেপালি মিডফিল্ডার যুবরাজ ধাকালের গোলে আবার এগিয়ে যায় ওয়ান্ডারার্স। তবে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ৮৮ মিনিটে গোল করে আরামবাগকে ফের সমতায় আনেন সামিন ইয়াসার। শেষ ছয় মিনিটে তিন গোলের নাটকীয়তার পরও কোনো দল জয় পায়নি। ২-২ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে ওয়ান্ডারার্স ও আরামবাগ।