বিশ্বকাপের আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের পরও স্বস্তিতে থাকার উপায় নেই ভক্তদের। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের আগে লা আলবিসেলেস্তেদর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চোট। হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে খেলোয়াড়দের চোট নিয়ে বেশ চিন্তিতই দেখা গেল স্কালোনিকে।
পেশির চোটের কারণে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন লিওনার্দো বালের্দি। এই ডিফেন্ডারের পরিবর্তে কাকে নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে দলে থাকা আরও কয়েকজন ফুটবলারের শারীরিক অবস্থা নিয়েও বেশ চিন্তিত স্কালোনি।
ম্যাচ শেষে চোট প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের অনেক খেলোয়াড়ই শতভাগ ফিট নয়। হয়তো সিদ্ধান্তটা শুধু একজন সেন্টার-ব্যাককে ঘিরে হবে না। সামনে আরও একটি ম্যাচ আছে, সেটির পর আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাব। বালের্দির পরিস্থিতির কারণে আমাদের আরও কয়েকজন সতীর্থকে মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যদের অবস্থা না দেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।’
বালের্দির বাদ পড়া প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আমি আশা করছিলাম বিষয়টা যেন আমাদের আশঙ্কার মতো না হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে যে ছেলেটির (বালের্দি) পেশিতে সমস্যা রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাকে বাদ দিতেই হয়েছে। কারণ, গ্রুপ পর্বে দলকে সাহায্য করার মতো ন্যূনতম শারীরিক অবস্থাও তার নেই। ঝুঁকিটা খুব বেশি ছিল। অনেক কষ্ট নিয়ে আমাকে তাকে জানাতে হয়েছে যে সে বিশ্বকাপে থাকবে না। তার প্রতি আমার আলাদা মমতা রয়েছে। কারণ, অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায় থেকেই আমি তাকে চিনি। কিন্তু বাস্তবতাটা মেনে নিতে হয়েছে। এই ম্যাচের আগে আমরা সবাই বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে প্রভাবিত ছিলাম।’
১০ জুন নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ শেষে দল নিয়ে কোচিং স্টাফ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে আছেন গনসালো মন্তিয়েল, নাউয়েল মলিনা এবং লেয়ান্দ্রো পারেদেস। হন্ডুরাসের বিপক্ষে বেঞ্চেও ছিলেন না এই তিনজন। মন্তিয়েল ও মলিনা দুজনই পেশির সমস্যায় ভুগছেন। একই পজিশনে খেলায় তাঁদের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ কারণেই প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর জন্য আগুন্তিন গিয়াই ও নিকোলাস কাপালদোকে দলে ডেকেছেন স্কালোনি। হন্ডুরাসের বিপক্ষে একাদশেও ছিলেন গিয়াই।
অন্যদিকে পারেদেস সর্বশেষ ক্লাব ম্যাচে পেশির চোটে পড়েছেন। এখনো স্বাভাবিক অনুশীলনে ফিরতে পারেননি তিনি। দলের বাইরে থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন হুলিয়ান আলভারেজ। গোড়ালিতে প্রদাহ রয়েছে এই ফরোয়ার্ডের। তবে আশা করা হচ্ছে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস ডান হাতের অনামিকায় চিড় নিয়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তারই খেলার কথা। নিকো পাস ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে মৌসুমের শেষ দিকে পাওয়া হাঁটুর চোট কাটিয়ে রোববার থেকে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।