মাদ্রিদ ডার্বিতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হারের পর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিও। ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
নিজের দাবির পক্ষে দুটি ঘটনার ছবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন মরিনিও। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা চাইলে সংবাদ সম্মেলন বাদ দিতে পারি, কারণ ম্যাচের পুরো গল্প তো এখানেই আছে।’
এরপর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা জানান মরিনিও, ‘ওগুলো ছিল দুটি পরিষ্কার লাল কার্ড। পরে ১০ জনের বিপক্ষে ১১ জন নিয়ে খেলতে গিয়ে আমরা যে সমস্যার মুখে পড়েছি, তাতে ৫০ মিনিট ৯ জনের বিপক্ষে ১১ জন নিয়ে খেললে কী হতো, তা শুধু কল্পনাই করতে পারি।’
মরিনিওর অভিযোগ, প্রথমার্ধের ওই দুটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলেছে। তবে হারের পরও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি, ‘আমাকে শুধু আমার খেলোয়াড়দের বুকে টেনে নিতে হবে। তারা নিজেদের সর্বস্ব দিয়েছে, প্রথমার্ধে দারুণ খেলেছে, অসাধারণ মান ও মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের জন্য আমাদের পুরোপুরি প্রস্তুত করে দিয়েছিল তারা।’
মরিনিওর উল্লেখ করা প্রথম ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে। বলের দখল নিতে গিয়ে রিয়ালের জুড বেলিংহাম ও আতলেতিকোর ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শুরুতে বেলিংহামকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরে ভিএআরের পর্যালোচনায় বেলিংহামের কার্ড প্রত্যাহার করে রোমেরোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
তবে রোমেরোর ট্যাকলটি লাল কার্ড পাওয়ার মতো ছিল বলে মনে করেন মরিনিও। রিপ্লেতে দেখা যায়, রোমেরোর বুটের স্টাড বেলিংহামের হাঁটুতে আঘাত করেছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে আতলেতিকোর লি কাং-ইনের ফেদেরিকো ভালভার্দের ওপর করা ট্যাকলকে ঘিরে। এই ঘটনায়ও সরাসরি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল বলে দাবি করেন রিয়াল কোচ।
রেফারির সিদ্ধান্তগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল বলে সরাসরি অভিযোগ না তুললেও ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মরিনিও। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই, এগুলো নিছক ভুল। একজন কোচ যেমন ভুল করেন, একজন খেলোয়াড়ও যেমন ভুল করেন, তেমনই।’