ইউরোপীয় ফুটবলে অর্থের জোরে নিজেদের অবস্থান বদলে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি ও পিএসজি। উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই দেশের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্লাব দুটির সাফল্যের পথও অনেকটা একই রকম। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ দুই দলের সাক্ষাতের আগে তাদের অবস্থানে বড় পার্থক্য। একদিকে শিরোপা জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার স্বপ্ন পিএসজির, অন্যদিকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সংকটে সিটি।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের রায়ের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে নামছে সিটি। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা কথিত ভুয়া বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় বাড়ানো এবং ব্যয় কমানোর অভিযোগ উঠেছে ক্লাবটির বিরুদ্ধে। অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ ৯০ কোটি পাউন্ডের বেশি, যা প্রায় ১২০ কোটি ডলার।
তবে এখনো সিটির শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। সম্ভাব্য শাস্তি হিসেবে পয়েন্ট কর্তন থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের কথাও শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য শাস্তির রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে ইংলিশ ফুটবলে।
২০০৮ সালে শেখ মনসুরের নেতৃত্বে আবুধাবির বিনিয়োগে মালিকানা বদলের পর সিটির উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০২৩ সালে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ণ হয় তাদের স্বপ্ন। একই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপ জিতে ট্রেবলও সম্পন্ন করে পেপ গার্দিওলার দল। কিন্তু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত দেড় দশকের অর্জন এখন প্রশ্নের মুখে।
অন্যদিকে কাতারের মালিকানাধীন পিএসজি ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ফরাসি ফুটবলে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগেও টানা দুবার শিরোপা জিতে তারা এখন ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল। এবার তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রিয়াল মাদ্রিদের কীর্তিতে ভাগ বসাবে পিএসজি। এই লক্ষ্য নিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করেছে লুইস এনরিকের পিএসজি।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সঙ্গে আর্থিক বিধি নিয়ে অতীতে সমস্যায় পড়েছিল দুই ক্লাবই। ২০২০ সালে সিটির বিরুদ্ধে উয়েফার আর্থিক সুশাসনবিষয়ক বিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। ৩ কোটি ইউরো জরিমানার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধও করা হয়েছিল ক্লাবটিকে। তবে ক্রীড়া সালিসি আদালতে আপিল করে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করাতে সক্ষম হয় সিটি। আদালত বলেন, ‘অভিযোগের বেশির ভাগই প্রমাণিত হয়নি অথবা নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল।’ এবারের সংকটেও সিটির পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি।
মাঠের বাইরের এমনই এক সংকটকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নস লিগে মাঠে নামতে হচ্ছে সিটিকে। অবশ্য বাইরের সংকট পেছনে ফেলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দৌড়াচ্ছে এনসো মারেস্কার দল। টানা ছয় জয়ে লিগের শীর্ষে তারা। তবে এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয় করাটা দলটির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া লিগে শাস্তির মুখে পড়লে আগামী মৌসুমে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় জায়গা ধরে রাখার পথ কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ই হয়ে উঠতে পারে সিটির জন্য নতুন করে নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ। চলতি প্রতিযোগিতায় কেমন করবে সিটি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যেতে পারে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে আজকের ম্যাচের পারফরম্যান্সে।