হোম > খেলা > ফুটবল

ম্যারাডোনার কপালে যা জোটেনি, সেটাই পাচ্ছেন মেসি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ হাতে মেসি ও ম্যারাডোনা। ছবি: এএফপি

আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসে একটি ছবি সময়ের ফ্রেমে চিরতরে বন্দি হয়ে আছে। ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর নার্স সু কার্পেন্টারের হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। উদ্দেশ্য অ্যান্টি-ডোপিং পরীক্ষা। ম্যারাডোনার মুখে হাসি। আর্জেন্টিনা টানা দুই ম্যাচ জিতেছে, দুর্দান্ত খেলছে, ক্লদিও কানিজিয়া জোড়া গোল করেছেন এবং আর্জেন্টিনা শিরোপার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

সেদিন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি সেই হাঁটার প্রকৃত অর্থ কী ছিল, এমনকি ম্যারাডোনা নিজেও না। আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে সেটিই ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষবার মাঠ ছাড়ার দৃশ্য। পরীক্ষায় এফিড্রিন শনাক্ত হওয়ায় তিনি বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হন এবং দেশের হয়ে আর কখনো মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বছরের পর বছর পেরিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ক্লারিন’ এক বাক্যে সেই দিনটিকে বর্ণনা করেছিল— ‘উৎসবের মঞ্চ রূপ নিয়েছিল এক জাতীয় ট্র্যাজেডিতে।’

বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসি এমন এক অনুভূতি পাবেন, যা ম্যারাডোনা কখনোই পাননি। ম্যারাডোনা যখন বিদায় নিয়েছিলেন, তিনি নিজেও জানতেন না সেটিই তাঁর শেষ ম্যাচ। কিন্তু মেসি মাঠে নামবেন পূর্বঘোষিত বিদায়ের বার্তা নিয়ে, গ্যালারিতে থাকবে তাঁর পরিবার, সতীর্থরা থাকবেন প্রস্তুত আর পুরো স্টেডিয়াম মুখিয়ে থাকবে তাঁকেই শ্রদ্ধা জানাতে।

ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করে টুর্নামেন্ট থেকেই বহিষ্কৃত হয়ে বিদায় নিয়েছিলেন; আর মেসি বিদায় নেবেন কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ জয়ের পর। সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর সব অভিমান ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে, যারা বছরের পর বছর তাঁর কাছে সাফল্য চেয়েছিল, যা তিনি এনেও দিয়েছেন।

ইতিহাসের এক অদ্ভুত বৈপরীত্য হলো, চার বছর আগেই কিন্তু ম্যারাডোনা নিজে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর সেটি শুধুই ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের হতাশা থেকে ছিল না। সংবাদপত্রের আর্কাইভ বলে, জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের আগেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত পাকা হচ্ছিল। ১৯৯০ সালের ৮ জুলাই, রোমের অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে ফাইনালের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে স্প্যানিশ দৈনিক ‘এল পাইস’ শিরোনাম করেছিল, ‘ম্যারাডোনা আজই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নিজের গল্পের ইতি টানতে প্রস্তুত।’ তাঁর বয়স তখন মাত্র ২৯ বছর, কিন্তু ইতিমধ্যেই জাতীয় দলের হয়ে ৭৮ ম্যাচ খেলে ফেলেছিলেন এবং শারীরিক যন্ত্রণায় জর্জরিত ছিলেন। একই প্রতিবেদনে কার্লোস বিলার্দোর একটি উক্তি উল্লেখ ছিল, যা বুঝিয়ে দেয় দল তাঁর ওপর কতটা নির্ভরশীল ছিল— ‘ম্যারাডোনা শতভাগ ফিট থাকলে ট্রফিটা এতক্ষণে আমাদেরই হতো। আর ম্যারাডোনাকে ছাড়া ফাইনাল খেলার কোনো অর্থই হয় না।’

ইতালি বিশ্বকাপ ম্যারাডোনার জন্য ছিল এক যুদ্ধক্ষেত্র। চোট নিয়ে খেলেছেন, প্রতিপক্ষের একের পর এক ফাউলের শিকার হয়েছেন। ক্যামেরুনের কাছে প্রথম ম্যাচ হার থেকে শুরু করে যুগোস্লাভিয়া ও ইতালির বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটের অগ্নিপরীক্ষা পার হয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছিল।

আন্দ্রেয়াস ব্রেহমের বিতর্কিত পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা, আর ম্যারাডোনা পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে চোখের পানিতে ভাসেন। সেখানেই তিনি তাঁর সেই ভাবনার সত্যতা নিশ্চিত করেন, এটিই ছিল তাঁর শেষ বিশ্বকাপ এবং জাতীয় দলের হয়ে তিনি আর কখনো মাঠে নামবেন না বলে জানিয়ে দেন। মনে হচ্ছিল এক যুগের অবসান। সাত বছর পর এক শিরোপা ও এক রানার্সআপের রেকর্ড নিয়ে কোচ বিলার্দো তাঁর অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনেছিলেন। সেই প্রজন্মের অনেকেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন, আর দীর্ঘ এক দশক ধরে যিনি দলকে কাঁধে নিয়ে টেনেছেন, সেই ১০ নম্বর জার্সিধারীও বিদায় নিতে প্রস্তুত বলে মনে হয়েছিল।

যদি সিদ্ধান্তটি শুধুই রোমেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে ফাইনাল হারের ধাক্কা হিসেবে একে চিহ্নিত করা সহজ হতো। কিন্তু তিন মাস পর ম্যারাডোনা আবারও বিদায় জানান। ১৯৯০ সালের ১৩ অক্টোবর ইএফই-র এক খবরে ‘এল পাইস’ জানায়, এএফএ প্রধান হুলিও গ্রোনদনার সঙ্গে গভীর মতপার্থক্যের কারণে তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ত্যাগ করেছেন। পাঁচ দিন পর একই পত্রিকায় কার্লোস আরেসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম আজ সাড়ে তিন দশক পর পড়তে গিয়ে থমকে যেতে হয়, ‘ম্যারাডোনার প্রস্থান পর্ব শুরু’। সাব-হেডলাইনটি ছিল— ‘আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিশ্চিত করেছেন যে তিনি আর কখনো জাতীয় দলে ফিরবেন না।’

আরেসের সেই প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় সেই সময়ে ম্যারাডোনাকে কীভাবে দেখা হতো। ম্যারাডোনার বয়স তখন মাত্র ৩০। তাঁর সেভিয়া, নিউয়েলস, জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফ, ৯৪-এর বিশ্বকাপ এবং বোকা জুনিয়র্সে শেষ অধ্যায় তখনও বাকি ছিল। কিন্তু সেই সময়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে সবকিছুই সমাপ্তির দিকেই নির্দেশ করছিল। এমনকি বোকা জুনিয়র্সে তাঁর ফেরার ভাবনাকেও ধরে নেওয়া হয়েছিল ক্যারিয়ারের অন্তিম সুর।

সেই সরে দাঁড়ানোর পেছনে আবার ছিল জোরালো রাজনৈতিক কারণ। ম্যারাডোনা গ্রোনদনার সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছিলেন এবং বিলার্দোর ওপর বিরক্ত ছিলেন। ইতালিতে টুর্নামেন্ট চলাকালে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সঙ্গে হওয়া বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পরও, তাঁরা দুজন নাকি বড্ড দ্রুত ফিফা সভাপতি জোয়াও হাভেলাঞ্জ এবং ফিফা কর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফেলেছিলেন। বিশেষ করে গ্রোনদনা যেভাবে পরে ইতালীয় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন, তা ম্যারাডোনা মেনে নিতে পারেননি। তাঁর প্রশ্ন ছিল—সবাই যদি আবার আপস করে ফেলে, তবে তিনি, ওসকার রুগেরি, রিকার্দো জুস্তি এবং যেসব খেলোয়াড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন, তাঁদের অবস্থান কোথায় দাঁড়ায়? হৃদয়ের সমস্ত যন্ত্রণা নিয়ে তিনি জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কোনো ভণ্ড নই, আমি কোনো আপস করি না।’

ম্যারাডোনা বলছিলেন নাপোলির সঙ্গে চুক্তির বাকি দুই বছর শেষ করে আর্জেন্টিনায় ফিরবেন, বোকায় খেলবেন এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দলের কোচ হবেন। সবকিছুতেই খেলোয়াড়ী জীবন-পরবর্তী ভাবনার ছাপ ছিল। তবে বিলার্দোর উত্তরসূরি হয়ে আসা নতুন কোচ আলফিও বাসিলে এই বিদায় মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। তিনি ঘোষণা দেন ম্যারাডোনাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন এবং তাঁর মন্তব্যই বলে দেয় ম্যারাডোনা তখন ঠিক কী ছিলেন, ‘সে পেলের চেয়েও মহান, আমরা তাকে ছাড়া চলতে পারি না।’

কিছুদিনের জন্য মনে হয়েছিল বাসিলকে হয়তো ম্যারাডোনাকে রাজি করানোর দরকারই পড়বে না। ম্যারাডোনাকে ছাড়াই দল জিততে শিখে গিয়েছিল। ‘কোকো’ বাসিলে নতুন করে দল সাজালেন, নতুন তারকাদের খুঁজে পেলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকা জয় করলেন এবং গড়ে তুললেন দীর্ঘ অপরাজিত যাত্রার রেকর্ড। এর মাঝে দিয়েগো তাঁর জীবনের সবচেয়ে ঝোড়ো সময় পার করছিলেন, যার মধ্যে ছিল ইতালিতে ডোপিংয়ের দায়ে নিষেধাজ্ঞা। আর্জেন্টিনা তখন এমন কিছু করে দেখিয়েছিল যা কয়েক বছর আগেও অসম্ভব মনে হতো—১০ নম্বর জার্সির ওপর নির্ভর না করেই এক সফল ফুটবলের পরিচয় তৈরি করা।

কিন্তু ম্যারাডোনা ফিরে এলেন। প্রথমে ১৯৯৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এএফএর শতবর্ষ উদযাপনে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। এরপর ঘটে গেল সেই বিপর্যয়, যা সবকিছু বদলে দিল। ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে কলম্বিয়া ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনাকে। বাসিলের দলকে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপের টিকিট পেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফ খেলায় নামতে হলো। সেই রাতে গ্যালারিতে বসে বিষাদময় হার দেখেছিলেন দিয়েগো। যে দল তাঁকে ছাড়া বাঁচতে শিখে গিয়েছিল, আচমকাই তাদের আবার তাঁর শরণাপন্ন হতে হলো।

সেই সময়ের সংবাদপত্রগুলোতে ফুটে উঠেছিল আর্জেন্টিনার চরম দুশ্চিন্তা। ‘ম্যারাডোনার বুটে ঝুলে থাকা’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে লেখা হয়, বাছাইপর্বে তাঁকে না ডাকার সিদ্ধান্তে অনড় থাকা কোচ বাসিলে ম্যারাডোনার সঙ্গে দেখা করতে সোজা রোসারিওতে চলে যান, যখন দিয়েগো নিউয়েলসে খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন।

বাসিলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে দলে ডাকেন এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ফিরিয়ে দেন। আর তখনই দেখা যায় আরেক চমৎকার বৈপরীত্য। যে মানুষটি তিন বছর আগে আর কখনো না ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনিই এখন থেকে যেতে চান! ১৯৯৩ সালের ২৯ অক্টোবর, সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের দুদিন আগে ম্যারাডোনা জানান যে তিনি ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলা চালিয়ে যেতে চান। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জাতীয় দলে আরও দুই বছর খেলতে চাই। এই মুহূর্তে আমি নিজেকে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।’

প্লে-অফ জয়ের নেপথ্যে ম্যারাডোনাই ছিলেন মূল কাণ্ডারি। সিডনিতে প্রথম ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর মনুমেন্তালে ১-০ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। তিনি ৮৬’র সেই দুর্দান্ত ম্যারাডোনা ছিলেন না, আর সেই মুহূর্তে তাঁর তা হওয়ার প্রয়োজনও ছিল না। তাঁর উপস্থিতিই ইতিহাসে অন্যতম সেরা বিপর্যয় সামলে ওঠা দলের মধ্যে নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছিল।

১৯৯৪ বিশ্বকাপের প্রথম কয়েকদিন অন্যরকম এক সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছিল। উদ্বোধনী ম্যাচে গ্রিসকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা, যেখানে দলের চতুর্থ গোলটি করেন ম্যারাডোনা। এরপর এল নাইজেরিয়া। কানিজিয়ার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা, যেখানে দিয়েগো আবার ছিলেন দুর্দান্ত। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গল্প যে এভাবে শেষ হতে যাচ্ছে, তার কোনো ইঙ্গিত ছিল না। যতক্ষণ না মাঠে এলেন নার্স সু কার্পেন্টার।

অ্যান্টি-ডোপিং পরীক্ষায় ম্যারাডোনার নমুনায় সুডোইফিড্রিন ধরা পড়ে এবং ফিফা তাঁকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আমি কোনো নাটক করতে চাই না, তবে বিশ্বাস করো, ওরা যেন আমার পা দুটো কেটে দিয়েছে।’ দিয়েগোকে ছাড়াই আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়, কিন্তু বুলগেরিয়ার কাছে হেরে শেষ ষোলোয় রোমানিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়। কয়েক ঘণ্টা আগেও যা ছিল এক মহাকাব্যিক অভিযানের সূচনা, তা আচমকা স্তব্ধ হয়ে যায়।

ম্যারাডোনার জীবনের দুটি বিদায় চূড়ান্ত ছিল না, আর যেটি চূড়ান্ত বিদায় ছিল, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ তিনি পাননি।

মেসির পথচলা ঠিক এর উল্টো। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকা সেনতেনারিওর ফাইনালে হেরে তিনিও তো অবসরের কথা বলেছিলেন, আবার ফিরেও এসেছিলেন। হারের যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, সমালোচনার মুখে পড়েছেন, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটাও সহজ ছিল না।

কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারের শেষটা হয়েছে এমন এক জায়গায়, যা বহু বছর তাঁর অধরা ছিল। তিনি জিতেছেন ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর এখন আর কোনো কিছুই পাওয়ার বাকি নেই; এমনকি কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনের ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই বেদনাদায়ক হারের পরও না—যে ম্যাচটি তিনি খেলেছিলেন বাবা হোর্হের অসুস্থতার খবর চেপে রেখে।

তাই বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক বিশেষ মুহূর্তের। মাঠে নামা সবাই জানেন, এটাই শেষবার।

মেসির এই রূপকথার মতো শেষ দৃশ্যের জন্য নির্ধারিত প্রতিপক্ষটি বেশ বেমানান। শেষ ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯৩ নম্বর দল বেনিন, বিশ্ব ফুটবলে যাদের কোনো বড় ঐতিহ্য বা শক্ত অবস্থান নেই।

তবে প্রতিপক্ষ স্রেফ এক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। মানুষ মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ‘আর্জেন্টিনা-বেনিন’ ম্যাচ দেখতে যাবে না; যাবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো লিওনেল মেসিকে দেখতে। ম্যারাডোনা যা কখনো পাননি, মেসি পেতে যাচ্ছেন সেই সুন্দর কাঙ্ক্ষিত এক ‘হ্যাপি এন্ডিং’।