এরই মধ্যে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন নিকো পাস। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি হিসেবে জোরালোভাবে উঠে আসছে তাঁর নাম। এবার এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের অসাধারণ নৈপুণ্যে উড়ে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কোমো। ইতালিয়ান ক্লাবটির জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান পাসের। দুটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করিয়েছেন আর্জেন্টাইন তরুণ। তাতেই কোমোর মাঠে দুঃস্বপ্নের এক রাত পার হয়েছে ইউনাইটেডের।
স্তাদিও জিউসেপ্পে সিনিগালিয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে কোমো। শুরুতে গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি দিয়োগো দালোত। তবে দুই মিনিটের মধ্যেই দুর্দান্ত এক শটে কোমোকে এগিয়ে দেন পাস। পেনাল্টি এরিয়ার কাছ থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোল করলেন পাস; ২২ বছর ৪৩ দিন। তালিকায় সবার ওপরে মেসি। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ২১ বছর ৩৩৭ দিন বয়সে ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বিরতির পরও ইউনাইটেডের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন পাস। তাঁর নিখুঁত পাস থেকে গোল করে কোমোর ব্যবধান বাড়ান তাসোস দুভিকাস। এরপর প্রতিপক্ষের ক্লিয়ারেন্স থেকে পাওয়া বল কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন পাস। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচজুড়ে দিশেহারা ছিল ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ। ম্যাচের শেষ দিকে কাইকি ব্রুনোর বাড়ানো ক্রস থেকে হেডে কোমোর চতুর্থ গোলটি করেন হাকোবো রামোন।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে পাস বলেন, ‘এটি আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ রাত। আমার জন্য, ক্লাবের জন্যও। এটি ছিল ঐতিহাসিক রাত। কারণ, আমরা ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি ক্লাবের বিপক্ষে খেলেছি। আর নিজেদের মাঠে এমন কিছু করতে পারা অবিশ্বাস্য। নিজেদের পারফরম্যান্সে আমরা খুবই খুশি।’
নিজের সাফল্যের পেছনে সতীর্থ ও কোচিং স্টাফের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন পাস, ‘মাঠে আমি দারুণ অনুভব করেছি। ম্যাচটি খুব উপভোগ করেছি। আমার চারপাশে অসাধারণ সব সতীর্থ আছে, যারা আমাকে নিজের খেলাটা খেলতে সাহায্য করে। এই দলে খেলতে পেরে আমি খুবই খুশি। কোচিং স্টাফের কথাও বলতে হবে, যারা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস জোগায়।’