ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ নতুন নয়। অবশেষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই ক্লাবটি দোষী প্রমাণিত হয়েছে। ১১৫ অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই ম্যান সিটির দোষ পাওয়া গেছে।
আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫ অভিযোগের ১১৪টিতে ম্যানচেস্টার সিটির দোষী প্রমাণিত হওয়ার খবর উঠে এসেছে ‘দ্য অ্যাথলেটিকে’র প্রতিবেদনে। বেশ কিছু সূত্র নাম না প্রকাশ করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ভিত্তিক এই ওয়েবসাইটকে অভিযোগের ব্যাপারে জানিয়েছে। অভিযোগের মধ্যে কেবল একটা ছাড়া সবকটাতেই সিটি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। মামলার শুনানির জন্য গঠিত স্বাধীন কমিশন এটা জানিয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলেও তারা শাস্তি পায়নি। চাইলে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সফল ক্লাবটি রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারে।
১১৫ অভিযোগের ১১৪টিতে দোষী সাফল্য হলেও ম্যানচেস্টার সিটি আগের অবস্থানেই অনড়। সিটির এক মুখপাত্র ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া এখনও চলমান। এর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় এখনো শেষ হওয়া বাকি। পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনীয়তার মধ্যে রয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্লাব যে বিবৃতি দিয়েছিল, ম্যানচেস্টার সিটি সেই অবস্থানেই রয়েছে।’
নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনে যদি সবকিছু হয়, ম্যানচেস্টার সিটির সেগুলো মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই। সিটির এক মুখপাত্র ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে বলেন, ‘গত আট বছর ধরে ক্লাব যথাযথ প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রিমিয়ার লিগের বোর্ড ও নির্বাহী বিভাগ পক্ষপাতহীন, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে। সব ধরনের পক্ষপাতমূলক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে।’
চার বছর তদন্তের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগ ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ১১৫ অভিযোগ করেছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে লন্ডনের আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রে এক স্বাধীন শুনানিতে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। ১২ সপ্তাহের শুনানি ও পর্যালোচনার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এর কার্যক্রম শেষ হয়। আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৯ বছরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানানো হয়েছিল।
ক্লাবের আর্থিক অবস্থার প্রকৃত ও সঠিক তথ্য জানা যায়, সিটি এ ব্যাপারে তখন সহায়তা করেনি বলে অভিযোগ উঠেছিল। পুরো সময়জুড়েই সিটি অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করে এসেছে।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিটি উয়েফার ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) নিয়ম ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। তখন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। জরিমানা করা হয়েছিল ৩০ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ৪২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ঠিক তার পাঁচ মাস পর ক্রীড়া আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দিয়েছিল। জরিমানার অঙ্কটা এক তৃতীয়াংশে নামিয়ে এনেছিল। করা হয়েছিল ১৪০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সময়টা দারুণ যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটির। ৫ ম্যাচে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ২০২৬-২৭ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে সিটি। যদিও সবশেষ দুই মৌসুমে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি সিটি। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে জিতেছে লিভারপুল ও আর্সেনাল। এখন পর্যন্ত ১০ বার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে সিটিজেনরা।