এক বছর আগেও বাংলাদেশের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।সাদা বলের এই সংস্করণে একের পর এক ভরাডুবি হচ্ছিল দলটির। তবে এক সময় যে ওয়ানডে ছিল বাংলাদেশের ‘প্রিয় সংস্করণ’, সেই ধারাবাহিকায় ফিরেছে এশিয়ার এই দলটি। এখন তাদের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা কেবল সময়ের অপেক্ষা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া—গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত ঘরের মাঠে এই চার দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে এই চার সিরিজ জয়ের পর প্রভাব পড়েছে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়েও। এ মুহূর্তে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এশিয়ার দলটি অবস্থান করছে ৯ নম্বরে। ১০ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৭৭। দুই দলের পয়েন্টের ব্যবধান এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এখন দেখে নেওয়া যাক দৃশ্যপটটা আসলে কী। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ডেডলাইন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বদলে যায় সেই সময়সীমা। ৬ মাস এগিয়ে এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নিয়ে আসা হয় কাট অফ ডেট। বাংলাদেশ-ভারত সীমিত ওভারের সিরিজ হওয়ার কথা আগামী ১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর। যার মধ্যে তিনটি ওয়ানডে হওয়ার কথা ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে সিরিজটা মাঠে গড়ানো এক রকম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভারত সফরে ৩ ওয়ানডে ও ৫ টি-টোয়েন্টি খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যার মধ্যে প্রথম দুই ওয়ানডে ২৭ ও ৩০ সেপ্টেম্বর। এই দুই ওয়ানডে জিতলে সর্বোচ্চ ৮২ পয়েন্ট পাবে উইন্ডিজ।
যদি বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ মাঠে না গড়ায়, সেক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে উঠতে পারছে না। আর যেহেতু বিশ্বকাপের এক আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা চার নম্বরে এবং জিম্বাবুয়ে সেরা দশের বাইরে, কাট অফ ডেটের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা ৯ দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। আর যদি বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ হয়, তবে এই সিরিজের হিসাব-নিকাশও চলে আসবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার ক্ষেত্রে।
আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজটাই মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে পরিত্যক্ত হওয়ায় আইরিশদের খেলতে হবে বাছাইপর্ব। আর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯২ রানে জয়ী আফগানিস্তানের রেটিং পয়েন্ট এখন ৯০। আফগানরা ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে অবস্থান করছে। আজ সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তান।
যে মিরাজের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ প্রায় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে, তিনি কদিন আগে ওয়ানডে নেতৃত্ব হারিয়েছেন। সাদা বলের এই সংস্করণে নেতৃত্ব পেয়েছেন লিটন দাস। ভারত সিরিজ হলে লিটনের আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে পথচলা শুরু হবে। এর আগে ২০২২ সালে যখন তিনি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন, তাঁর নেতৃত্বেই ভারতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।
সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ যদি মাঠে গড়ায়, তখন সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার হিসেবে চলে আসবে এই সিরিজ। ভারতের বিপক্ষে সিরিজে তেমন কোনো ভরাডুবি বাংলাদেশের না হলে লিটন-মিরাজদের আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা এক রকম নিশ্চিত। আর ভারতের বিপক্ষে তাদের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওয়ানডে কাট অফ ডেটের মধ্যে জেতা অনেকটা কঠিনই বলা চলে।
১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই স্বর্ণালী যুগ এখন আর নেই। এবার বাছাইপর্ব খেলতে হলে টানা তিন ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব খেলতে হবে উইন্ডিজকে। ২০১৯ সালে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেললেও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি ক্যারিবীয়রা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত সরাসরি খেলতে না পারলে তাদের আরও ৯ দলের সঙ্গে বাছাইপর্ব খেলতে হবে। আগামী বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত হবে বাছাইপর্ব। ক্রিকইনফোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য। বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি কাটবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট। দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ দলও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। তবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের নতুন সংস্করণ অনুযায়ী এই তিন দল খেলবে সুপার সিরিজ।