হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের এবার শিক্ষা হওয়া উচিত’

ক্রীড়া ডেস্ক    

নাইটক্লাবের ঘটনায় দল থেকে বাদ পড়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার ব্রাইডন কার্স। ছবি: সংগৃহীত

মাঠের চেয়ে বরং মাঠের বাইরের ঘটনায় বেশি আলোচনা চলছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে নিয়ে। নাইটক্লাব-কাণ্ডের জেরে দল থেকেই বাদ পড়েছেন ইংলিশ পেসার ব্রাইডন কার্স। মাইকেল ভনের মতে এ ধরনের ঘটনা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের জন্য অনেক বড় একটা শিক্ষা।

কার্সের নাইটক্লাবের ঘটনা একটি স্বাধীন রেগুলেটর তদন্ত করে দেখছে বলে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। তাতে করে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে কার্সকে ইসিবি বাদ দিয়েছে। ভনের মতে কার্সের শাস্তি পুরো ইংল্যান্ড দলের জন্যই একটা শিক্ষা। বিবিসিকে রেডিও ফাইভ লাইভে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘কাউকে এমন শাস্তি পেতেই হবে। এটা পুরো ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল এবং দেশটির পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেবে।’

কার্সের ঘটনা গত এক বছরে ইংল্যান্ডের কোনো ক্রিকেটারকে ঘিরে মাঠের বাইরের বিব্রতকর ঘটনার এটি সর্বশেষ উদাহরণ। এর ফলে দলের সঙ্গে অ্যালকোহল-সংক্রান্ত সংস্কৃতি ও সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত শীতকালীন সফরগুলোতেও মাঠের বাইরের বিভিন্ন ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ওয়েলিংটনে হ্যারি ব্রুক ও একটি নাইটক্লাবের নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যকার ঘটনা এবং অ্যাশেজের মাঝপথে ক্রিকেটারদের মদ্যপান। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে।

হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে সুযোগ না পাওয়ায় কার্স কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডারহামের হয়ে খেলছিলেন। শনিবার রাতের নাইটক্লাব ক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী কার্সকেই ওই ব্যক্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেদিন ডারহামের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে দলকে জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া বেন স্টোকস এবং ম্যাথু পটসকেও ভিডিওতে দেখা যায়। তবে পটস-স্টোকসের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। এরপর রোববার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ডার্বির একটি নাইটক্লাবের সামনে থেকে কার্সের হাতে হাতকড়া পরিয়ে চার পুলিশ কর্মকর্তা নিয়ে যাচ্ছেন।

তদন্ত চলমান থাকায় মূলত কার্সের পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলা হচ্ছে না। দেশের ক্রিকেটের বদনাম যেন কেউ না করতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাঁর এই শাস্তির ঘটনা উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করেন ভন। বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বলেন,‘অসদাচরণ করলে কিংবা দলের জন্য বদনাম বয়ে আনার পরিণতি কী হতে পারে, সেটা ক্রিকেটাররা বুঝবে। একমাত্র এমন শাস্তিই ক্রিকেটারদের সত্যিকার অর্থে বুঝিয়ে দেবে সবকিছু।’

এ বছরের সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টটাই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবশেষ কোনো ম্যাচ। কার্সের অনুপস্থিতিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড ইনিংস ও ১০৩ রানে জিতেছে। ম্যাচটি শেষ হয়েছিল তিন দিনে। বৃহস্পতিবার লর্ডসে শুরু হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। তৃতীয় তথা শেষ টেস্টের ভেন্যু এজবাস্টন। ৯ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়াবে শেষ টেস্ট।