অল্প রানআপ নিয়ে বোলিংয়ে এসে মুহূর্তেই স্টাম্প ভেঙে ফেলেন। কিংবা ব্যাটারের পায়ে লাগতেই সজোরে আবেদনের পর আঙুল তুলে দেওয়া। মূলত মিচেল স্টার্ক প্রসঙ্গেই এটা বলা। বাঁহাতের পেস-সুইয়ে একের পর এক উইকেট নেওয়া স্টার্কের সামনে এখন কিংবদন্তিদের রেকর্ড গড়ার হাতছানি। তবে আপাতত এটা নিয়ে ভাবছেন না অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার।
৪৩৩ উইকেট নিয়ে টেস্টে বোলারদের মধ্যে যৌথভাবে ১২ নম্বরে এখন স্টার্ক ও রঙ্গনা হেরাথ। যেভাবে মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট নিচ্ছেন স্টার্ক, তাতে করে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসারের কাছে কপিল দেব ও ডেল স্টেইনকে ছাড়িয়ে যাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে কপিল ও স্টেইনের উইকেট ৪৩৪ ও ৪৩৯।
যখন কিংবদন্তিদের সঙ্গে নাম উচ্চারিত হয়, তখন সেটা স্টার্কের কাছে বিশেষ কিছু। তবে নতুন রেকর্ড গড়া নিয়ে বেশি দূর ভাবেন না অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এএপি) স্টার্ক বলেন, ‘এটার অর্থ হলো আমি কিছুটা হলেও খেলেছি। যখন কিংবদন্তিদের সঙ্গে আমার নামও উচ্চারিত হয়, এটা অবশ্যই দারুণ অনুভূতি। খুবই বিনয়ী করে। তবে যতক্ষণ খেলছি, ততক্ষণ এসব অর্জন বা স্বীকৃতি নিজের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এগুলো নিয়ে আগাম চিন্তা করি না।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্টার্ক সবশেষ খেলেছেন ২০২৫-২৬ অ্যাশেজে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ ৩১ উইকেট নিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে দুটি ফাইফার। ব্যাটিংয়ে দুই ফিফটিতে করেছেন ১৫৬ রান। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জিতেছেন সিরিজসেরার পুরস্কার। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ে নিয়েছেন ৭৫৯ উইকেট। যার মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭৫৯ উইকেটের মধ্যে স্টার্ক টেস্টে নিয়েছেন ৪৩৩ উইকেট। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে তিনবার ম্যাচে পেয়েছেন ১০ উইকেট। টেস্টে ব্যাটিংয়ে ১৩ ফিফটিতে করেছেন ২৪৫৮ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘যখন আপনার বয়স ৩৬ এবং আপনি ১৬ বছর ধরে খেলছেন, তখন আপনি আশা করতেই পারেন যে কোনো না কোনো দিক থেকে নিজেকে আরও উন্নত করেছেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে খেলে যেতে পারার কারণ হলো প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছি এবং শিখছি। এটার সঙ্গে যদি ওবল সিম, ধারাবাহিকতা এবং আরও কিছু বিষয় যোগ করেন, তাহলে বলতে পারি—এসব নিয়ে আমার চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা বেশ পরিষ্কার।’
৮০০ উইকেট নিয়ে টেস্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী মুত্তিয়া মুরালিধরন। এই তালিকায় দুইয়ে থাকা শেন ওয়ার্নের উইকেট ৭০৮। তিনি ২০২২ সালে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। পেসারদের মধ্যে এই তালিকায় সবার ওপরে জেমস অ্যান্ডারসন। টেস্টে তাঁর উইকেট ৭০৪। ২০২৪ সালে লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন অ্যান্ডারসন।
ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট খেলতে নামবে দুই দল। আট ম্যাচে সাত জয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। এই চক্রে চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।