টেস্টের স্ট্যাটাস তো চীনের নেই। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) যে ১০৪টি দেশকে টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস দিয়েছে, তাদের মধ্যে চীন আছে ঠিকই; তবে অবস্থান অনেক পেছনে। সে যা-ই হোক, ক্রিকেটের প্রসারের স্বার্থে আইসিসি এবার চীনকে ‘টার্গেট’ করেছে।
বিপুল জনসংখ্যার কারণেই যে চীনের দিকে আইসিসির নজর, সেটা অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। ১৪৮ কোটি জনসংখ্যার দেশ হওয়ায় ক্রিকেটের প্রবৃদ্ধিতে ভারতের অবদান অনেক বেশি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) অনেক সময় প্রভাবও খাটায় আইসিসির ওপর। এখন যদি চীন যুক্ত হয়, তাহলে ক্রিকেট আরও বেশি প্রসারিত হবে।
ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ভক্তসংখ্যা এক বিলিয়ন তথা ১০০ কোটির বেশি। যার প্রায় ৯০ শতাংশই দক্ষিণ এশিয়ায়। এবার ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও ৫০ কোটি ভক্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৪০ কোটি জনসংখ্যার চীনকে সম্ভাবনাময় একটি বিশাল বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘চীনের নারী দলের ধারাবাহিক সাফল্য দেশটিতে ক্রিকেটের জন্য বড় ধরনের উৎসাহ তৈরি করেছে।’
২০২২ সালের হাংঝু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট আয়োজন ও দেশটির নারী জাতীয় দলের অগ্রগতির পর চীন আইসিসির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হয়েছে। গত দুই বছরে চীনের নারী দল বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০ ধাপ এগিয়েছে। নারী টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে চীন এখন অবস্থান করছে ৩৬ নম্বরে।
বাংলাদেশ সময় গতকাল সকাল ৬টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-চীন নারী এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল। নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবে উঠেছিল রোদও। কিন্তু হলো না একটা বলও। কারণ, বৃষ্টিতে মাঠের আউটফিল্ডের যে অবস্থা হয়েছিল, পরে তা আর শুকোয়নি। ম্যাচ কর্মকর্তারা তাই বাধ্য হয়ে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। তাতেই নিশ্চিত হয়ে গেল নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সেমিফাইনাল। কারণ, ১৯৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ অবস্থান করছে ১০ নম্বরে। ৩৬ নম্বরে থাকা চীনের রেটিং পয়েন্ট ৫০।
গত পাঁচ বছরে চীনে ক্রিকেট উন্নয়নে আইসিসি ১৫ লাখ ডলার খরচ করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। দেশটিতে এখন তিনটি শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট ভেন্যু রয়েছে। এর মধ্যে তাইছাংয়ে নতুন একটি ১ হাজার ৫০০ আসনের স্টেডিয়াম রয়েছে। এখানে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পাশাপাশি জাতীয় দলগুলোর প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবেও এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
চীনে ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আগ্রহ কতটা, তা যাচাই করাও শুরু করেছে আইসিসি। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ মান্দারিন ভাষায় সম্প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ সপ্তাহে চীনে ভিডিও দেখা হয়েছে ৪৪ লাখ বার।
প্রায় ২৮ কোটি জনসংখ্যার ইন্দোনেশিয়াকেও সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইসিসি। দেশটির ছেলেরা টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৬৩ নম্বরে অবস্থান করছে। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান ২৩তম। সংযোগ বলেন, ‘চীন ও ইন্দোনেশিয়ার জনসংখ্যার কিছু অংশও যদি ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করে, তাহলে তারা ক্রিকেটের ভক্তসংখ্যা বাড়ার পেছনে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।’
আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ ক্রিকেটের ভক্তসংখ্যা বাড়াতে চীন ও ইন্দোনেশিয়াকে টার্গেট করেছেন বলে জানিয়েছেন সংযোগ। আইসিসির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘এটি বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের ভক্তসংখ্যা আরও ৫০ কোটি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এটা আইসিসি চেয়ারম্যানের লক্ষ্য।’
ফুটবল বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও ক্রিকেটের ব্যাপ্তিটা অত বেশি নয়। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে—এই ১২ দেশ টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে। তা ছাড়া দীর্ঘ সময়ের খেলা বলে অনেকের আগ্রহ কম। তবে টি-টোয়েন্টি মর্যাদাপ্রাপ্ত দলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। সবশেষ ২০২৪,২০২৬ দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই হয়েছিল ২০ দল নিয়ে।