ক্রিকেটার পরিচয় ছাপিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় বড় হয়ে উঠেছে সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট নিয়মিত খেললেও বাংলাদেশের জার্সিতে সাকিব খেলতে পারছেন না ১৬ মাস ধরে। মাশরাফিও লোকচক্ষুর অন্তরালে আছেন অনেক দিন ধরে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, নিজেদের নিরাপরাধ প্রমাণ করতে পারলেই বাংলাদেশ দলে খেলতে পারবেন সাকিব-মাশরাফি।
ক্রিকেট থেকে এক রকম নির্বাসিত সাকিব ও মাশরাফির ফেরার পথে আইনি জটিলতাও রয়েছে। যাঁর মধ্যে সাকিবের নামে পোশাক শ্রমিক হত্যা মামলা, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, চেক প্রতারণার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মাশরাফির নামেও রয়েছে মামলা। আজ ঢাকায় ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে আমিনুল জানিয়েছেন, ক্রিকেটে ফিরতে হলে মামলা মোকদ্দমা সামলে আসতে হবে সাকিব-মাশরাফিকে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের যে আইনগত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো মোকাবেলা করে তারা যদি নিরাপরাধ হয়ে তারা যদি দেশের মাঠে এসে খেলে, আমি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তাদের স্বাগত জানাব। আমরা এ ব্যাপারে শতভাগ নমনীয় থাকব ইনশা আল্লাহ।’
দেশের ক্রিকেটে মনে রাখার মতো অনেক মুহূর্ত এনে দিয়েছেন সাকিব ও মাশরাফি। একের পর এক রেকর্ড গড়ায় রেকর্ড আল হাসান তকমা পান সাকিব। আর বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০ ম্যাচ জয়ের কীর্তি রয়েছে মাশরাফির। আমিনুলের চাওয়া দেশের দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার যেন দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন আমি একজন খেলোয়াড়। সাকিব ও মাশরাফি বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তাদের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যে ভালোবাসা আমি দেখেছি ও খেলার প্রতি তাদের (সাকিব-মাশরাফি) আকৃষ্টতা আমি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে মনে করি যেহেতু তাদের মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি রয়েছে, সেটা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত।’
বাংলাদেশের জার্সিতে দূরে থাক, সাকিব ২০২৫ ও ২০২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের কোনোটিতেই খেলতে পারেননি। মাশরাফি সর্বশেষ ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সাকিব-মাশরাফি দেড় বছর ধরে খেলতে পারছেন না ঘরোয়া ক্রিকেটে। গত কদিন ধরে অবশ্য সাকিবের দেশের ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা চলছে। পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই ফিরতে পারেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার। ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।
২০২৪ জুলাই থেকে সাকিব দেশের বাইরে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর তিনি আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারেননি। আজকের পত্রিকার পডকাস্টে পরশু আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সাকিবকে ফেরাতে বিসিবি যথেষ্ট ইতিবাচক। এরই মধ্যে তাঁর ফাইল ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং কদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের মামলা যাচাইবাছাই করা হবে। সে কারণেই সাকিবকে দ্রুত পেতে আত্মবিশ্বাসী বিসিবি।
১১,১৩ ও ১৫ মার্চ হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এ সিরিজেই সাকিবকে পেতে চায় বিসিবি।