অস্ট্রেলিয়ায় এমন একটা দিন বাংলাদেশ কাটাবে, তা কজনে কল্পনা করতে পেরেছিলেন? কদিন আগে এই বাংলাদেশ ইনিংসে হেরেছে জিম্বাবুয়ের কাছে। তার ওপর ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশের যে দল টেস্ট খেলেছে, সেই দলের কোনো ক্রিকেটারেরই ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। আজ ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটা দাপট দেখিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ।
বহুল প্রচলিত ইংরেজি প্রবাদ ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’র বাস্তবতাই প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ। আগুনে বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে সফরকারীরা। দুর্দান্ত বোলিং করা বাংলাদেশ দিনটা নির্বিঘ্নে পার করেছে। প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটে ৯৬ রানে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে সফরকারীরা। এখনো ১০২ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে ৪৮ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৩ রানে ব্যাটিং করা অস্ট্রেলিয়া চা পানের বিরতির পর খেলতে পেরেছে কেবল ৫ ওভার। শেষ ২ উইকেটে যোগ করেছে মাত্র ১৫ রান। অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই উইকেট হারাতে পারত। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে জশ হ্যাজলউডকে কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মারতে যান তানজিদ হাসান তামিম। আকাশে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকা বল পয়েন্ট থেকে উল্টো দিকে দৌড়েও তালুবন্দী করতে পারেননি নাথান লায়ন। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৬। তবে তানজিদ তামিম রানের খাতা খুলতেই পারেননি।
উদ্বোধনী জুটি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬ রানে যে সাদমান ইসলাম-তামিমের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারত, তা ভেঙেছে ৩৬ রানে। নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিচেল স্টার্ককে লেগ সাইডে ঘোরাতে যান সাদমান। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় কাভার পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা লায়নের হাতে। সাদমান ৩০ বলে ২ চারে করেন ২০ রান।
সাদমানের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামেন মুমিনুল হক। তানজিদ তামিমের সঙ্গে সাবলীলভাবে খেলতে থাকেন মুমিনুল। দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন তানজিদ তামিম ও মুমিনুল। ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রানে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। মুমিনুল ও তামিম ৩৫ ও ৩২ রানে অপরাজিত।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেড। ওয়েদারাল্ড (২৩), হেডকে (২২) দ্রুত ফিরিয়ে শুরুতে ধাক্কা দেন হাসান মাহমুদ। এরপর মারনাস লাবুশেনের (১) উইকেট নেন ইবাদত। আর লাঞ্চের আগে ক্যামেরন গ্রিনকে (১৩) ফেরান তাসকিন।
হঠাৎ ধসে ৪ উইকেটে ৭৪ রানে পরিণত হওয়ার পর হাল ধরেন স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। পঞ্চম উইকেটে স্মিথ-ক্যারি গড়েন ৫৫ রানের জুটি। যা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এই জুটি ভাঙতেই ৬৯ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অজিরা। স্মিথের ৭১ রানই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ। ১০৯ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৭ চার ও ১ ছক্কা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন হাসান মাহমুদ। তিন ফাইফারের তিনটিই নিয়েছেন বিদেশের মাঠে। স্বাগতিকদের অপর ৪ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী। দুজনেই দুটি করে উইকেট পেয়েছেন। বাংলাদেশের ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের কীর্তি তাসকিন গড়েছেন এই ম্যাচেই।