হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে বাংলাদেশ বিশেষ বার্তা দিয়েছে, এখন সবাই বাংলাদেশকে খেলতে ডাকবে’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট কয় দিনে শেষ হবে—টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই এটা নিয়ে চলছিল আলাপ-আলোচনা। পাঁচ দিন অবশ্য পুরো লাগেনি। বাংলাদেশ ডারউইনে আজ চতুর্থ দিনেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। নাজমুল হোসেন শান্তর মতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে বড় এক বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ।

সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া নিয়মিত মুখোমুখি হলেও টেস্টে দেখা হয় না বললেই চলে। এবার তারা টেস্টে মুখোমুখি হলো ৯ বছর পর। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ১-১ সমতায় টেস্ট সিরিজ ড্র করেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ২৩ বছর পর। ২০০৩ সালে সেবার অস্ট্রেলিয়া সফরে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়েছিল বাংলাদেশ। দুটিতেই স্বাগতিকেরা জিতেছিল ইনিংস ব্যবধানে।

ডারউইনে এবার ৯ উইকেটে জিতে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। শান্তর মতে আজকের এই জয়ের মাধ্যমে তাঁর দল ক্রিকেট বিশ্বের সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছে। অজিদের উড়িয়ে দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই আমার মনে হয় আমরা ক্রিকেট বিশ্বকে একটা ভালো বার্তা দিতে পেরেছি যে যেকোনো কন্ডিশনে ভালো খেলার সামর্থ্য রাখি। আমার মতে ভবিষ্যতে এরকম কন্ডিশনে আরও বেশি বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাব। আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

এশিয়ার বাইরে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডের মাঠে যদি বিবেচনা করা হয়, সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াতেই দীর্ঘ সময় পর টেস্ট খেলতে গেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে সবশেষ বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ২০১০ সালে। সেবার লর্ডসে তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়েছিলেন। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় সবশেষ বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ২০২২ সালে। এমনকি বছরখানেক আগেও দ্বিস্তরবিশিষ্ট টেস্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাতে করে র‍্যাঙ্কিংয়ের নিচের সারির দলের ওপরের দলের বিপক্ষে সাদা পোশাকে খেলার সুযোগ কমে যায়। বর্তমানে ৭৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম সারির দলগুলো বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাবে বলে মনে করেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘সেই সুযোগটা যখন আমরা পাব, তখন আমাদের স্কিলটা দেখাতে পারব। এ ধরনের কন্ডিশনে কীভাবে খেলতে হয়, সে সম্পর্কে ধারণা হবে। আশা করব যে এই জয় আমাদের ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য অনেক ভালো একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে। সবাই আমাদের এমন কন্ডিশনে খেলতে আরও বেশি বেশি আমন্ত্রণ করবে।’

ডারউইনেই গত সপ্তাহে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। অনভিজ্ঞ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্সের পর শিক্ষা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক আজ ৯ উইকেটে জয়ের পর বলেন, ‘ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতি ম্যাচটা আমি বলব যে একদমই ভালো ক্রিকেট খেলিনি। তবে ক্রিকেটে এরকম দিন আসে। ঐ ম্যাচের পরে যে আমরা অনেক বেশি ভেঙে পড়েছিলাম, তা না। কারণ, দিন শেষে সেটা প্র্যাকটিস ম্যাচই ছিল। সেই জায়গাটাতে কোন কোন জায়গায় আমাদের ঘাটতি ছিল, কোথায় ভুল করেছি, সেই জিনিসগুলো নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে।’

এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের পর হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। তানজিদ হাসান তামিম করেছেন সেঞ্চুরি (১০১)। মিরাজ ফিফটির পাশাপাশি (৬৫) ঘূর্ণিজাদুতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। পাশাপাশি টেলএন্ডারের সঙ্গে তাঁর ধীরস্থির ব্যাটিংও অনেক প্রশংসা পেয়েছে। আজ ৯ উইকেটে জয়ের পর শান্ত বলেন, ‘পাশাপাশি আমরা কিছু জায়গায় হালকাভাবে নিয়েছিলাম। সবাইকে বোলিং করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচটা আমরা প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যই খেলেছি। তবে হ্যাঁ আমার মতে সেটা খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি আমাদের টেস্ট ম্যাচে।’

অস্ট্রেলিয়াকে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।