ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাইয়ের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের সংকট আবারও সামনে এসেছে। এই পতনের পেছনে দীর্ঘদিনের অবহেলাকেই বড় কারণ বলে মনে করছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। তাঁর মতে, সমস্যাগুলো যখন সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তখন এমন পতন হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল।
এএফপিকে আকরাম বলেন, ‘এটি হতাশাজনক পরিস্থিতি। তবে গত পাঁচ বছর ধরেই আমি এমন কিছু ঘটতে পারে বলে দেখতে পাচ্ছিলাম। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো একজন ব্যক্তি বা একটি বিষয়কে দায়ী করা যায় না, কারণ এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে।’
আকরামের মতে, এমন সময়ে শুধু পিসিবি চেয়ারম্যানকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; গোটা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে হবে, ‘আমাদের বুঝতে হবে, লাল বলের ক্রিকেটে আমাদের প্রতিভার ঘাটতি রয়েছে। সাদা বলের দল মোটামুটি ভালো। পিসিবি চেয়ারম্যানকে দোষ দেওয়া সহজ। কিন্তু আমরা যখন ঘুমিয়ে ছিলাম এবং সামগ্রিক সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করিনি, তখন এমন পতন ঘটাটাই স্বাভাবিক।’
ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের সংকট ছিল স্পষ্ট। প্রথম দুই টেস্টে হারের পর সাত খেলোয়াড়কে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সময়ে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে তৃতীয় টেস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে। এত পরিবর্তনের পরও অবশ্য ফল বদলায়নি। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টে আট উইকেটে হেরে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করে পাকিস্তান।
তৃতীয় টেস্টে অবশ্য অভিষিক্ত রাজাউল্লাহর ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংস পাকিস্তানকে লড়াইয়ের সুযোগ এনে দিয়েছিল। তাঁর সঙ্গে মোহাম্মদ আব্বাসের ১২১ রানের জুটিতে ৪৪৯ রান করে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩০। কিন্তু জো রুটের অপরাজিত ৬২ ও জর্ডান কক্সের অপরাজিত ৫৯ রানে ২৫তম ওভারেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
পাকিস্তানের সমস্যা অবশ্য শুধু ইংল্যান্ড সফরের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়। গত তিন বছরে টেস্ট দলে অধিনায়ক বদলেছে তিনবার, প্রধান কোচ এসেছেন ছয়জন। আর গত পাঁচ বছরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদেও পরিবর্তন এসেছে পাঁচবার। ধারাবাহিক পরিকল্পনার এমন অভাবকে দেশটির ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন সাবেকরা।
সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিও বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন কঠিন সময় চলছে। এভাবে খেলোয়াড়দের অসম্মান করা যায় না এবং আপনাদের ব্যবস্থাপনাও শক্তিশালী নয়।’