হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘কিছু না করতে পারলে দয়া করে দায়িত্ব ছাড়ুন’

ক্রীড়া ডেস্ক    

পিসিবি নির্বাচক আকিব জাভেদকে ধুয়ে দিলেন সাবেক অধিনায়ক আজহার আলী। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ক্রিকেটে বিরাজ করছে অস্থির এক অবস্থা। লাগাতার ব্যর্থতায় বদলানো হচ্ছে কোচ। আসছেন নতুন অধিনায়কও। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নির্বাচককে ধুয়ে দিলেন আজহার আলী।

আজহার আলী যাঁকে ধুয়ে দিয়েছেন, তিনি আকিব জাভেদ। আকিব একই সঙ্গে পিসিবির নির্বাচক ও হাইপারফরম্যান্স ডিরেক্টরও। কখনোবা তিনি ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় সময়ই ভোল পাল্টান পাকিস্তানের সাবেক পেসার। আকিবের ওপর তোপ দেগে আজহার বলেন, ‘‘তিনি যে সিদ্ধান্তই নেন, সেটাই ব্যর্থ হয়। আর এরপর তিনি বলেন, ‘এটা আমার দায়িত্ব নয়।’ আগে নিজের দিকে তাকান। আর আপনি যদি এই দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, যদি পাকিস্তানের ক্রিকেটে কোনো পরিবর্তন আনতে না পারেন, তাহলে সরে দাঁড়ান।’’

আকিবের বিরুদ্ধে কদিন আগে সাবেক লাল বলের প্রধান কোচ জেসন গিলেস্পি তোপ দেগেছিলেন। ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আকিবকে আয়নায় নিজের মুখ দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন গিলেস্পি। প্রসঙ্গক্রমে ২০২৪ সালের ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন গিলেস্পি। গিলেস্পির মতো সাদা বলের প্রধান কোচ গ্যারি কারস্টেনও মেয়াদ ফুরোনোর আগে পদত্যাগ করেছিলেন। আকিবকে নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আজহার বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে আমরা এ ধরনের খারাপ সিদ্ধান্ত দেখে আসছি।’

হেডিংলির পর লর্ডস টেস্টে হারের পর সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠায় পিসিবি। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চারদিকে যখন তুমুল সমালোচনা, তখন আকিব এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন। জিও নিউজের অনুষ্ঠান ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’-এ সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, নির্বাচক কমিটিকে তাদের বাছাই করা দলের দায়িত্ব নিতে হবে। তবে ম্যাচ অনুযায়ী দলের কম্বিনেশন নির্ধারণ—অর্থাৎ একাদশে কে খেলবেন, সেটা অধিনায়ক ও প্রধান কোচকে নেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এছাড়া সাত ক্রিকেটার ও কোচ পরিবর্তনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেছিলেন নির্বাচক কমিটিতে থাকা মিসবাহ-উল-হকও।

আজহারের মতে দলের পারফরম্যান্সের দায়িত্বভারও নেওয়া উচিত আকিবের। সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘পারফরম্যান্সের দায়িত্ব তাঁর নেওয়া উচিত। তাঁর বিচার-বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। এই সপ্তাহে আমি তার সাক্ষাৎকার শুনেছি, সেখানে তিনি সরফরাজ ও বাবরের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছিলেন। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেই তিনিই তাঁদের (সরফরাজ-বাবর) নিয়োগ দিয়েছিলেন। এটাই কাউকে বিবেচনা করতে যথেষ্ট।’

সরফরাজ এ বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের টেস্ট দলের প্রধান কোচ হয়েছিলেন। তাঁর অধীনে পাকিস্তান চার টেস্ট খেলে চারটিতেই হেরেছে। বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাইয়ের পর পাকিস্তান দুই টেস্ট খেলে ইংল্যান্ডের কাছে দুটিতেই হেরেছে। আর ২০২৩ সালে পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছিলেন গুল। সরফরাজের পরিবর্তে টেস্টের প্রধান কোচ হয়েছেন মাইক হেসন এবং অ্যাশলি নফকে পেয়েছেন পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দিয়েই তিন বছর পর পাকিস্তান টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ফিরে পেয়েছেন বাবর আজম।

হেডিংলির পর লর্ডসে হেরে টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে তারা জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ। বুধবার এজবাস্টনে শুরু হচ্ছে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। পাকিস্তান এবার নামবে ধবলধোলাই এড়াতে।