আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সামনে রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একটা বহর আগেই চলে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনুশীলন তো বটেই, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। আইসিসির একাডেমি ওভালে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ হয়েছে ড্র।
প্রস্তুতি ম্যাচের ফল যেমনই হোক, আসল লক্ষ্য থাকে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়া। আফগানিস্তান টেস্টের আগে কতটা প্রস্তুত, বাংলাদেশ-আমিরাত প্রস্তুতি ম্যাচটা খতিয়ে দেখা যাক। দুই ইনিংস মিলে বাংলাদেশ করেছে ৩৪৮ রান। তবে ফিফটি মাত্র একটি। প্রথম ইনিংসে ৫৭ রান করেছেন সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ রান মুশফিকুর রহিম করেছেন দ্বিতীয় ইনিংসে। অথচ এখনো টেস্ট মর্যাদা না পাওয়া আমিরাতের দুই ব্যাটার মুহাম্মদ ওয়াসিম, আফতাব আলম ফিফটি করেন। ওয়াসিম করেন ৬৯ রান। আফতাবের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ রান।
দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিংটা তুলনামূলক ভালো হয়েছে। ইকবাল হোসেন ইমন ৬ ওভারে ৩০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। তিনিই কি না এবারের আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় টেস্ট দলে ট্রাভেলিং রিজার্ভ। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই ইমন দুর্দান্ত বোলিং করছেন। যুব টেস্টে ২ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন। আর যুব ওয়ানডেতে ৪৩ ম্যাচে তিনবার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ইউনি স্পোর্ট এসএর বিপক্ষে ইমার্জিং দলের ত্রিদেশীয় সিরিজের এক ওয়ানডেতে ফাইফার পেয়েছেন।
আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ইমনের ৪ উইকেটের পাশাপাশি অন্য দুই পেসার ইবাদত হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ খালেদ আহমেদও একটি করে উইকেট পেয়েছেন। তাইজুল ইসলাম নিয়েছেন ৩ উইকেট। নাঈম হাসান পেয়েছেন এক উইকেট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৩৪ রানের জবাবে আরব আমিরাত গুটিয়ে গেছে ২২২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬.৫ ওভারে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১১৪ রান করতেই ম্যাচ ড্র।
প্রথম বহরে দলের সঙ্গে যেতে না পারা টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত গতকাল উড়াল দিয়েছেন। শুক্রবার আবুধাবিতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজের একমাত্র টেস্ট। রশিদ খানের মতো লেগস্পিনার না থাকলেও আরেক লেগস্পিনার কায়েস আহমেদ আছেন। ব্যাটিং লাইনআপে হাশতমউল্লাহ শাহিদী, অধিনায়ক রহমত শাহ, সেদিকউল্লাহ আতালরা আছেন। পেসার মোহাম্মদ সেলিমেরও টেস্টে ফাইফার রয়েছে। কী করবে বাংলাদেশ, সেটা সময়ই বলে দেবে।