বাংলাদেশের কাছে ডারউইনে প্রথম টেস্টে হারের পর বিপাকে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ট্রাভিস হেড-প্যাট কামিন্সদের এই হারকে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে লজ্জাজনক। এমনকি রিকি পন্টিংও ধুয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াকে। উসমান খাজা এখানেই ব্যতিক্রম। তাঁর মতে এভাবে ঢালাও সমালোচনা করে বাংলাদেশের জয়কে অসম্মান করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া দলকে নিয়ে তাদের দেশের সংবাদমাধ্যমেই যখন বিব্রতকর, লজ্জাজনক বলা হচ্ছে, তখন মুখ খুললেন খাজা। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সাবেক অজি ব্যাটার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘‘আমি জানি আমরা বিশ্বের ১ নম্বর দল। সবাই আশা করেছিল আমরাই জিতব। কিন্তু ‘লজ্জাজনক’ বা ‘অপমানজনক’ কথাগুলো বলা আসলে বাংলাদেশের জন্য চরম অবমাননাকর। তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে পুরোপুরি ছাড়িয়ে গেছে। তাই আপনাকে তাদের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলতে হবে— ‘দারুণ খেলেছ, এবার চলো পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর দেই’। আমি সত্যিই বুঝতে পারি না কেন মানুষ তাদের নিয়ে এভাবে অনাদর করে কথা বলছে।’’
১৩১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে এখন অস্ট্রেলিয়া। ৯ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৩। এমনকি ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের র্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষে অজিরা। ডারউইন টেস্টের আগে ঘরের মাঠে সবশেষ ১৫ টেস্টের মধ্যে ১১টিতেই জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই অস্ট্রেলিয়াকে কেবল তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। ব্যাটিং, বোলিংয়ে অনবদ্য বাংলাদেশ সাড়ে তিন দিনেই পেয়ে গেল ৯ উইকেটের সহজ জয়।
অস্ট্রেলিয়ার হারকে বাজেভাবে উপস্থাপন করে বাংলাদেশের জয়কেই খাটো করে দেখা হচ্ছে বলে মনে করেন খাজা। গতকাল ফেসবুকে সাবেক অজি ওপেনার বলেন, ‘বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আমি কিছু সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দেখেছি। কিছু মানুষের কথা শুনেছি। একটা জিনিস আমাকে বিরক্ত করেছে তা হলো— অনেকে বলছেন অস্ট্রেলিয়ার হেরে যাওয়াটা লজ্জাজনক বা অপমানজনক। কিন্তু এটা তো টেস্ট ক্রিকেট। আপনি নিশ্চয়ই বোঝেন যে দুই দলেরই জয়ের সুযোগ থাকে। এটাই তো এই খেলার আসল উদ্দেশ্য।’
২০০৩ সালে সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশ দুই টেস্ট খেলে দুটিতেই ইনিংসে হেরেছে। দুটির কোনোটিই পাঁচ দিনে গড়ায়নি। নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হক-মুশফিকুর রহিমদের ২৩ বছর আগে খেলা তো দূরে থাক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই অভিষেক হয়নি। তাঁরাই এবার সাড়ে তিন দিনে ডারউইনে জয় ছিনিয়ে আনলেন। গত পরশু ৯ উইকেটে জয়ের পর ম্যারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ড এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। গ্যালারি থেকে ভেসে আসে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান। প্রবাসীদের সঙ্গে মিরাজের ছবি তোলার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।
শান্ত তো দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেনই। ব্যাটিংয়ে করেছেন ৮৪ রান। পাশাপাশি তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং পরিবর্তন ও সতীর্থদের উজ্জীবিত করা বাংলাদেশের জয়ে দারুণ অবদান রেখেছে। ম্যাচসেরা হাসান মাহমুদের ৯ উইকেট, তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি, মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স—বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকেই লাগছিল অসহায়। শান্তদের প্রশংসায় ভাসিয়ে খাজা বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে শুধু এটুকুই বলার আছে— সেদিন তারাই (বাংলাদেশ) ছিল সেরা দল। আমি এখনো বিশ্বাস করি সার্বিকভাবে অস্ট্রেলিয়া আরও ভালো দল, যদি তারা তাদের নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে পারে। আশা করি আগামী টেস্টেই তা দেখতে পাবেন, কিন্তু কে জানেন।’