লর্ডসে পরশু সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান। কিন্তু মাঠের চেয়ে বরং মাঠের বাইরের ঘটনায় টালমাটাল ইংল্যান্ডের ক্রিকেট। দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়ানোর আগে তাই বাধ্য হয়ে এক ক্রিকেটারকে বাদ দিল ইংল্যান্ড।
নাইটক্লাবের বাইরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার কারণেই মূলত কার্সকে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ডার্বিশায়ার কনস্ট্যাবুলারির এক মুখপাত্র গতকাল দুপুরে ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘শনিবার রাতে (২২ আগস্ট) ডার্বি শহরের কেন্দ্রে মাতাল অবস্থায় বিশৃঙ্খল আচরণের সন্দেহে ৩০ বছর বয়সী বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে কিছুক্ষণ পরই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কারণ, তিনি সেই এলাকা ছেড়ে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না।’
কার্সের ঘটনার প্রেক্ষিতে রোববার রাতেই ইসিবি ঘটনাটি তদন্ত করার নিশ্চয়তা দেয় এবং বিষয়টি স্বাধীন ক্রিকেট রেগুলেটরের কাছে পাঠায়। এখন ক্রিকেট রেগুলেটরও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারের আচরণ তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। ইসিবি গতকাল কার্সের বিকল্প খেলোয়াড়ের নামও জানিয়ে দিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড বলেছে, ‘তদন্ত চলা অবস্থায় এবং ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় টেস্টের দলে ব্রাইডন কার্স থাকছেন না। তাঁর পরিবর্তে সনি বেকারকে দলে নেওয়া হয়েছে।’
হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে সুযোগ না পাওয়ায় কার্স কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডারহামের হয়ে খেলছিলেন। শনিবার রাতের নাইটক্লাব ক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী কার্সকেই ওই ব্যক্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেদিন ডারহামের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে দলকে জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া বেন স্টোকস এবং ম্যাথু পটসকেও ভিডিওতে দেখা যায়। তবে পটস-স্টোকসের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। এরপর রোববার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ডার্বির একটি নাইটক্লাবের সামনে থেকে কার্সের হাতে হাতকড়া পরিয়ে চার পুলিশ কর্মকর্তা নিয়ে যাচ্ছেন।
কার্সের ঘটনা গত এক বছরে ইংল্যান্ডের কোনো ক্রিকেটারকে ঘিরে মাঠের বাইরের বিব্রতকর ঘটনার এটি সর্বশেষ উদাহরণ। এর ফলে দলের সঙ্গে অ্যালকোহল-সংক্রান্ত সংস্কৃতি ও সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত শীতকালীন সফরগুলোতেও মাঠের বাইরের বিভিন্ন ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ওয়েলিংটনে হ্যারি ব্রুক ও একটি নাইটক্লাবের নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যকার ঘটনা এবং অ্যাশেজের মাঝপথে ক্রিকেটারদের মদ্যপান। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে।
এ বছরের সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টটাই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবশেষ কোনো ম্যাচ। কার্সের অনুপস্থিতিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড ইনিংস ও ১০৩ রানে জিতেছে। ম্যাচটি শেষ হয়েছিল তিন দিনে। বৃহস্পতিবার লর্ডসে শুরু হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। তৃতীয় তথা শেষ টেস্টের ভেন্যু এজবাস্টন। ৯ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়াবে শেষ টেস্ট।