আইসিসি ইভেন্টে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশের খেলা হলেও টেস্টে একেবারে হয় না বললেই চলে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলবে এশিয়া মহাদেশের এই দল। নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিমরা এরই মধ্যে পৌছেও গেছেন প্রথম টেস্টের ভেন্যু ডারউইনে।
ঢাকা থেকে ডারউইনে সফর কেমন ছিল—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজ সেই যাত্রাপথের সারসংক্ষেপ নিয়ে একটা ভিডিও বানিয়েছে। ভিডিওর শুরুতে বিশেষজ্ঞ ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ও স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদকে কথা বলতে দেখা গেছে। মুশফিক, শান্ত, তাইজুল ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, তানজিদ হাসান তামিমদের সঙ্গে নাফিস ইকবাল ও কোচরাও লাগেজ নিয়ে বিমানে উঠেছেন। বিমানে নিজেদের মধ্যে শান্ত-তাইজুলরা কথাবার্তা বলেছেন। প্রধান কোচ ফিল সিমন্স মোবাইলে হাতের ইশারায় কী যেন বোঝাতে চাচ্ছেন। স্টেডিয়ামের সামনে মিচেল স্টার্কের ছবি সংবলিত বিশাল ব্যানার দেখা গেছে। বড় করে লেখা ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ।’ প্রথম টেস্টের ভেন্যু ও শুরুর তারিখও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডারউইনে যাওয়ার আগে সিঙ্গাপুরে থেমেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিসিবির ভিডিওতে দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের কনকর্ড হোটেল থেকে লাগেজ নিয়ে বের হচ্ছেন ক্রিকেটার-কোচরা। অস্ট্রেলিয়ায় বিমানবন্দর থেকে নামার পর বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের ব্যানার দেখা গেছে। ক্যাপশনে বিসিবি লিখেছে, ‘যাত্রা শুরু। ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর, তারপর ডারউইন—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত টেস্ট সিরিজ খেলতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।’
২০০৮ সালে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হওয়ার পর বাংলাদেশ এবার দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে গেল অস্ট্রেলিয়ায়। ১৮ বছর পর বাংলাদেশের এই চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি। শান্ত-মুশফিক-তানজিদ তামিমদের অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলা তো দূরে থাক, ২০০৩ সালে কোনো ক্রিকেটারেরই বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়নি। নতুন চ্যালেঞ্জের আগে বাংলাদেশকে শুভকামনা জানিয়ে বিসিবি লিখেছে, ‘নতুন এই চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা। সফল হোক তাদের অস্ট্রেলিয়া অভিযান।’
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ দলের একটি বহর উড়াল দিয়েছে। ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট খেলতে নামবে দুই দল। আট ম্যাচে সাত জয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। এই চক্রে চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।