জুনে ভারত সফরে যাচ্ছে তাই পারফরম্যান্স করেছে আফগানিস্তান। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৩০০ রানে হেরেছে আফগানরা। সেই ধারাবাহিকতায় ওয়ানডে সিরিজে হয়েছে ধবলধোলাই। দলের ভরাডুবিতে এবার নেতৃত্ব ছাড়লেন আফগানিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটার হাশমাতউল্লাহ শাহীদি।
নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত রাতে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব ছেড়েছেন শাহীদি। আফগান বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘অধিনায়কের পদ ছেড়ে দিচ্ছি। সবার প্রতি সম্মান রেখে এবং আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অধিনায়কেরপালন করা আমার কাছে অনেক সম্মানের ছিল।’
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুনে ভারত সফর পর্যন্ত ৫৫ ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করেছেন শাহিদী। অধিনায়ক হিসেবে ১ সেঞ্চুরি ও ১২ ফিফটি করেছেন তিনি। এ সময় শাহিদী ৩৩.৭৯ গড় ও ৭০.৭৭ স্ট্রাইকরেটে করেন ১৪৫৩ রান। একমাত্র সেঞ্চুরি আসে কদিন আগে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে। তবে তাঁর সেঞ্চুরি বৃথা যায় সতীর্থদের ব্যর্থতায়।
শাহীদির নেতৃত্বে ওয়ানডেতে আফগানিস্তান জিতেছে ২৭ ম্যাচ। হেরেছে ২৫ ম্যাচ ও বাকি ৩ ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। তাঁর নেতৃত্বে আফগানরা ২০২৩ সালের এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেছে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জিতেছিল আফগানিস্তান। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আফগানরা। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের দুটি ওয়ানডে সিরিজ জয় এসেছে শাহিদীর নেতৃত্বে। যার মধ্যে গত বছর শারজায় বাংলাদেশ হয়েছে ধবলধোলাই।
শাহিদীর নেতৃত্বে আফগানিস্তানের অসাধারণ পারফরম্যান্স সম্পর্কে শাহিদী বলেন, ‘এই সমস্ত অর্জন শুধু আমার একার নয়। বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ত্যাগ এবং সমন্বয়ের ফল। খেলোয়াড়দের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা সব সময় আমাকে সমর্থন করেছেন এবং প্রত্যেক জয় ও চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে আমার পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছেন। দলের আমার ওপর বিশ্বাস রাখায় কর্মকর্তা ও প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা সব সময় আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। আপনাদের আস্থা ও সহযোগিতা আমার জন্য সর্বদা সম্মানের বিষয় হয়ে থাকবে।’
নেতৃত্ব ছাড়লেও ওয়ানডে চালিয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করেছেন শাহিদী। ২০১৩ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ বছরে তিনি ৯৬ ওয়ানডে খেলেছেন। ১ সেঞ্চুরি ও ২২ ফিফটিতে করেছেন ২৬০৭ রান। গড় ও স্ট্রাইকরেট ৩৩.৪২ ও ৬৭.৮।