অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবারই যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জিতেছে তা নয়। এর আগেও তিন সংস্করণে জয়ের কীর্তি রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের। তবে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাঠে টেস্টে হারানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উদযাপনটা তাই বাঁধনহারা।
বড় কোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর পর ক্রিকেটার-কোচদের ড্রেসিংরুমে ‘আমরা করব জয়’ গান গাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবারের জয়টা তো বিশেষ কিছুই। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর পর মাঠেই শান্ত-মুশফিকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। প্রবাসীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাবগি করেছেন তাঁরা। সেই রেশ ছড়িয়ে পড়েছে ড্রেসিংরুমেও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজ-শরীফুল ইসলাম-তাইজুল ইসলাম-তাসকিন আহমেদদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ, ম্যানেজার নাফিস ইকবাল গেয়েছেন ‘আমরা করব জয়’ গান।
মিরাজ-তানজিদরা গান গেয়ে শেষটা করেছেন ‘হিপ হিপ হুররে’ বলে। দল যে কতটা উৎফুল্ল, সেটা তাঁদের হাসিমুখ দেখেই স্পষ্ট। বিসিবিও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়টা উদযাপন করেছে কেক কেটে। ‘অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে অভিনন্দন’ লেখা কেক আনা হয়েছে বিসিবি কার্যালয়ে। বোর্ড কর্মকর্তারা এনেছেন একটি ফুলের তোড়াও।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন ঐতিহাসিক জয় এর আগে বাংলাদেশ পেয়েছিল ২০০৫ সালে। কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ সেই ওয়ানডে ম্যাচ জিতেছিল ৫ উইকেটে। এবার ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পেল ৯ উইকেটের দাপুটে জয়। মুমিনুল হক ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে জয় নিশ্চিতের পর এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয় ডারউইন।
২০০৩ সালে বাংলাদেশের সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্টে শান্ত-মুমিনুলদের খেলা তো দূরে থাক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। এবার ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে দুর্দান্ত জয়ের পর ফিল সিমন্সের শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ইয়ান বিশপ। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে বিশপ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন। যারা আগে তাদের প্রাপ্য প্রশংসা বা স্বীকৃতি দিতে কার্পণ্য করেছে, তাদের কাছ থেকে এখন যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি পাওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে।’
মিরাজ-তানজিদদের পাশাপাশি স্বদেশি ফিল সিমন্সেরও প্রশংসা করেছেন বিশপ, ‘মেহেদী (মিরাজ) ও তানজিদ (তামিম)-সহ অনেকেই এই সাফল্যে অবদান রেখেছেন। তবে বিশেষ করে হাসান মাহমুদের কথা বলতেই হয়–পুরোপুরি সুস্থ থাকা সাপেক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিখুঁত লাইন ও লেংথে বল করে আসছেন এবং তার বোলিং অ্যাকশনটিও চমৎকার, পরিপাটি ও সোজা। কোচ ফিল সিমন্স এবং তার দলের জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চমৎকার বাংলাদেশ।’
বিশপের পাশাপাশি হার্শা ভোগলেও বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। বিশ্ব সংবাদমাধ্যমেও চলছে বাংলাদেশ বন্দনা। এমনকি বাংলাদেশে অবস্থিত ডেনমার্কের দূতাবাসও শান্ত-মিরাজদের অভিনন্দন জানিয়েছে।