আবারও প্রতিভাবান পেসার ও স্পিনার খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ বিরতির পর দেশজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে বিসিবি-রবি বোলার হান্ট। এবার নারী ক্রিকেটারদের অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকছে।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এই প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম। দেশের আটটি ভেন্যুতে হবে বাছাই, এর মধ্যে দুটি ভেন্যু থাকবে ঢাকায়। নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন দিনে ট্রায়াল হবে।
বোলার হান্টের মূল ভাবনাটা অবশ্য নতুন নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভা তুলে আনার ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগের সফল নজির রয়েছে। ২০০৫ সালে প্রথমবার পেসার খোঁজার কর্মসূচি নেওয়া হয়। দুই বছর পর ২০০৭ সালে আবারও আয়োজন করা হয়। সেসব উদ্যোগ থেকেই উঠে এসেছেন রুবেল হোসেন, রবিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বী ও শুভাশিস রায়ের মতো পেসাররা। আগের দুই কর্মসূচিতেই পেস বোলিং কোচ সরওয়ার ইমরানের সম্পৃক্ততা ছিল।
এরপর ২০১৬ সালে রবি-বিসিবি স্পিন হান্ট হয়েছে সারাদেশে। একই বছর হওয়া রবি-বিসিবির পেস হান্টও আলোচনায় আসে ইবাদত হোসেনের কারণে। প্রায় ৪০ হাজার তরুণ পেসারের সেই প্রতিযোগিতায় ঘণ্টায় ১৩৯ দশমিক ৯ কিলোমিটার গতিতে বল করে সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার হয়েছিলেন এবাদত। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন।
বোলার হান্ট থেকে পাওয়া এই সাফল্যই এবারের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তবে এবার শুধু দ্রুতগতির পেসার খোঁজাই একমাত্র লক্ষ্য নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বোলিং প্রতিভার বৈচিত্র্য খুঁজে বের করতে চায় বিসিবি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাছাইয়ের পরই এই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে না। নির্বাচিত প্রতিভাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যার মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। অর্থাৎ এক দিনের ট্রায়ালে প্রতিভা খুঁজে নিয়ে থেমে না থেকে তাদের দীর্ঘমেয়াদে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চায় বোর্ড। ভবিষ্যতে জাতীয় দল ও জাতীয় দলের পাইপলাইনের জন্য প্রস্তুত করা হবে তাদের।
নারী ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তিও এবারের আয়োজনকে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে। তাদের বাছাইয়ের সময় নির্বাচকেরাও মাঠে থাকবেন। আর জাতীয় দলের আশপাশে থাকা কোচরা থাকবেন সামগ্রিক বাছাই প্রক্রিয়ায়।