টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে। তানজিদ হাসান তামিমের কাছে সেটা স্পেশাল না হয়ে কি উপায় আছে! ক্যারিয়ারের এই বিশেষ সেঞ্চুরি মা-বাবাকে উৎসর্গ করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
নাথান লায়নকে লং অফে ঠেলে তানজিদ তামিমের আজকের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। হেলমেটটা খুলে শূন্যে উড়েছেন। হেলমেট-ব্যাট উঁচিয়ে দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করা এই ব্যাটার ডারউইনে আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। সেঞ্চুরি প্রসঙ্গে বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘সেঞ্চুরি যেহেতু অবশ্যই স্পেশাল। আমার মা-বাবার জন্য দিতে চাই এটা।’
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের এমন দাপুটে পারফরম্যান্স অনেকেরই হয়তো কল্পনার বাইরে ছিল। কদিন আগে এই ডারউইনেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ৩৮ রানে। ম্যারারা ওভালে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দুই দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৫৩ রানে। হাতে এখনো রয়েছে ৪ উইকেট।
টানা দুই দিন দুর্দান্ত খেলার পর সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন তানজিদ তামিম। ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার বলেন, ‘প্রথমত আলহামদুলিল্লাহ। ভালো একটা দিন পার করেছি আমরা। আমাদের পরিকল্পনা এটাই ছিল যে প্রথম সেশন কীভাবে কাটাতে পারি। তারাও অনেক ভালো বোলিং করেছে। আমাদেরও চেষ্টা ছিল বাড়তি কিছু করব না।’
গত মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয় তামিমের। অভিষেক টেস্টে দুই ইনিংস মিলে করেন ৩০ রান। আজ অস্ট্রেলিয়ার মাঠে নিজের প্রথম টেস্ট ইনিংসে সেঞ্চুরি করে ফেললেন তিনি। ১৯৭ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ১০১ রান করে আউট হয়েছেন।
ডারউইনে সেঞ্চুরি করে হানিফ মোহাম্মদের ৬২ বছর আগের স্মৃতি মনে করালেন তামিম। ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ইনিংসেই তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন হানিফ। এমনকি ২০০৬ সালে শাহরিয়ার নাফিসের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান বনে গেলেন তামিম। ডারউইনে সেঞ্চুরিটা তাই তামিমের কাছে বিশেষ কিছুই। বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘দিনশেষে যেটা বললেন আমার দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি। সত্যিই একটা ভালো লাগার মুহূর্ত।’
টস জিতে ডারউইনে প্রথম টেস্টে আগে ব্যাটিং নিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথের ৭১ রান ছাড়া বলার মতো কিছু নেই অজিদের ইনিংসে। বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৪৩ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ে ফেলেছেন হাসান।