হোম > খেলা > ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাইয়ের স্বপ্ন মিরাজের

ক্রীড়া ডেস্ক    

দলের জয়ে অলরাউন্ড পারফর্ম করেছেন মিরাজ। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় তাঁর কণ্ঠে। ছবি: ক্রিকইনফো

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের জয়ের পর এবার স্বাগতিকদের ধবলধোলাই করার লক্ষ্য দলটির সামনে। আইসিসির ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই স্বপ্নের কথাই শোনালেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান ছিল মিরাজের। ৬৫ রানের ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসিয়ে দেন তিনি। হাসান মাহমুদ ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতলেও তাই এই জয়ে আলাদাভাবেই নিতে হবে মিরাজের নাম।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ২২ আগস্ট; ভেন্যু ম্যাকাই। সে ম্যাচ জিতলে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল উন্নতি করবে বাংলাদেশ। তিনে উঠে আসবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাতে করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।

দ্বিতীয় টেস্ট রেখে মিরাজ বলেন, ‘অবশ্যই আমরা সেভাবেই (সিরিজ জয়ের কথা) ভাবছি এবং যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছি, সেটাতেই মনোযোগ ধরে রাখতে চাই। প্রথম ম্যাচ জেতার পর আমাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে টেস্ট ম্যাচ জেতা কখনোই সহজ নয়। এই মুহূর্তে আমরা শুধু এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। পরের ম্যাচ নিয়ে পরে পরিকল্পনা করব।’

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে দারুণ পারফর্ম করেছেন একাধিক ক্রিকেটার। ম্যাচসেরা হাসান মাহমুদ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটসহ ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়েছেন। প্রথম ইনিংস ১০১ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম। একমাত্র ইনিংসে অধিনায়ক শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৮৪ রান। মিরাজ তো ব্যাট-বল দুই বিভাগেই দুর্দান্ত ছিলেন।

অথচ প্রথম টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ইনিংস এবং ৩৮ রানে হেরে যায় সফরকারীরা। সেই হারের পরও দলের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস হারায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। মিরাজের কথায় উঠে এসেছে সেই সময়ের মানসিক দৃঢ়তার কথাও, ‘আমি যখন নিজেই সংগ্রাম করছিলাম, তখন আমাদের টিম ম্যানেজার, নাফিস ইকবাল, আমাকে এই কন্ডিশনে কীভাবে খেলতে হবে, সে বিষয়ে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। মানসিকভাবে আমি খুব ভালো অনুভব করছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। একপর্যায়ে তিনি নেটে আমাকে বোলিংও করেছেন, আর আমি তাঁর বল খেলেছি।’

স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদকে নিয়েও কথা বলেছেন মিরাজ। প্রথম ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের বিশ্বাস ধরে রাখতে তাঁর ভূমিকার কথা জানিয়ে এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘মুশতাক আহমেদের কথাও বলতে চাই। আমরা প্রথম ম্যাচে (প্রস্তুতি ম্যাচ) হেরে যাওয়ার পর তিনি প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছে গিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বাস রাখো। তুমি যদি বিশ্বাস করো, তাহলে জয় সম্ভব, আর বিশ্বাস তোমাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে।’ সেই ছোট ছোট বিষয় থেকেই আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি। আর আজ আপনারা সবাই সেটার ফল দেখতে পাচ্ছেন।’