হোম > খেলা > ক্রিকেট

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হৃদয়ের ইতিহাস

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

আগের দিনই ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন এই ব্যাটার। ছবি: ফেসবুক

ডাবল সেঞ্চুরি করে আগের দিন অপরাজিত ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। সেই ইনিংসটাকে আরও বড় করে ত্রিপল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন এই ব্যাটার। প্রথম কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিদেশের মাটিতে ত্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তিনি।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ভাঙতে তাওহীদ হৃদয়ের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৫ রান। কিন্তু রেকর্ড ভেঙেই থামেননি বাংলাদেশি ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে চার দিনের ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম ত্রিপল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে একসঙ্গে গড়েছেন একাধিক ইতিহাস।

বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের এটিই প্রথম ত্রিপল সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন হৃদয়।

বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এর আগে ত্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি ছিল কেবল দুজনের—রাকিবুল হাসান ও তামিম ইকবালের। ২০০৬-০৭ মৌসুমে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩১৩ রান করেছিলেন রাকিবুল। এরপর ২০১৯-২০ মৌসুমে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ইস্ট জোনের হয়ে ৩৩৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। এবার তাঁদের পাশে নাম লেখালেন হৃদয়।

এই ইনিংস খেলার পথে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন হৃদয়। এতদিন রেকর্ডটি ছিল শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের দখলে। ২০০৩ সালে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন তিনি।

আগের দিন ২০৪ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় পরদিন আবার ব্যাটিংয়ে নেমে ধাপে ধাপে এগিয়ে যান তিন অঙ্কের আরেকটি মাইলফলকের দিকে। দ্বিতীয় সেশনেই পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম ত্রিপল সেঞ্চুরি।

হৃদয়ের ইতিহাস গড়া ত্রিপল সেঞ্চুরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন রেজাউর রহমান রাজা। বাংলাদেশ ‘এ’ দল অষ্টম উইকেট হারানোর সময় হৃদয়ের নামের পাশে ছিল ২২৫ রান। এরপর ১০ নম্বরে নামা রাজার সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। ৪৫০ বলে ত্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন হৃদয়। ছয় বছর পর সেই একই মাঠে এবার ব্যক্তিগত কীর্তির নতুন অধ্যায় লিখলেন তিনি।