হোম > খেলা > ক্রিকেট

শরীফুলকে কী ‘টিপস’ দিয়েছিলেন স্টার্ক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

মিচেল স্টার্ক ও শরীফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার এক মাস হতে চলল। তবু ঐতিহাসিক এই সিরিজ নিয়ে আলোচনা না হয়ে কী পারে! ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়ে ১-১ সমতায় ড্র করা তো চাট্টিখানি কথা নয়। শুধু তা-ই নয়, অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে মিচেল স্টার্কের কাছ থেকে কিছু ‘টিপস’ও নিয়ে এসেছেন শরীফুল ইসলাম।

ম্যাকাইতে গত ২৩ আগস্ট টেস্ট শেষ হওয়ার পর স্টার্কের সঙ্গে শরীফুল-মেহেদী হাসান মিরাজদের কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। সেই ম্যাচে দুই বাঁহাতি পেসার স্টার্ক-শরীফুল দুর্দান্ত বোলিংয়ে আসেন লাইমলাইটে। তখন কী কথা হয়েছিল, আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেটাই জানিয়েছেন শরীফুল। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘সে অনেক ভালো মানুষ, তার সঙ্গে কথা বললাম, ভালো লেগেছে। তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, কীভাবে নিজের কাজটা ভালোভাবে করা যায়। কীভাবে ম্যাচের আগে নিজেকে প্রস্তুত করা যায়, এগুলো জানতে চেয়েছিলাম।’

পেসের আগুনে স্টার্ক ব্যাটারদের নাজেহাল করছেন বছরের পর বছর। টেস্ট ইতিহাসে স্পিন-পেস মিলিয়ে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে ৪৪৫ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে এখন তিনি। পেছনে ফেলেছেন লঙ্কান বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাকাইতে ১০ উইকেট নিয়ে পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। সেই সিরিজে ১২ উইকেট নিয়ে জিতেছেন সিরিজসেরার পুরস্কারও।

স্টার্কের কাছ থেকে যা শিখেছেন, তা ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে চান শরীফুল। আজকের পত্রিকাকে বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার বলেন, ‘সে বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা বাঁহাতি পেসার। এমন একজনের কাছ থেকে শেখা বা নিজের দায়িত্ব সম্পর্ক জানা, ম্যাচের আগে বা পরে কী করা দরকার, অবসর সময়ে কী করতে হবে—এসব নিয়ে কথা হয়েছে। সে সুন্দরভাবে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। উত্তর দিয়েছে। বিষয়টা খুব ভালো লেগেছে।’

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে কেবল এক ম্যাচ খেলতে পেরেছেন শরীফুল। আরও স্পষ্ট করে বললে এক ইনিংস। ম্যাকাইতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের সেই ইনিংসে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বিদেশের মাঠে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিং এখন শরীফুলের। তবে মাত্র ৭৫০ বলে শেষ হওয়া টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে যাওয়ায় সিরিজ জেতা হলো না বাংলাদেশের। দুই ইনিংসেই নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ১০০-এর আগে গুটিয়ে যায়।

ম্যাকাই টেস্টের রেকর্ড ছাপিয়ে জিততে না পারার আক্ষেপ ঝরেছে শরীফুলের কণ্ঠে। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছু রেকর্ড হয়েছে, অনেকে বিষয়টা বলেছে। কিন্তু ওই যে বললাম, আরও ভালো হতো যদি ম্যাচটা জিততাম। সেসব রেকর্ড আরও স্মরণীয় হয়ে থাকত। তখন মনে করতাম, আমি এ রকম পারফর্ম করে একটা ম্যাচ জিতিয়েছিলাম। এই আরকি। তবে হ্যাঁ, এমন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অনেক অনুপ্রেরণা, অনেক আত্মবিশ্বাস জোগায়।

ম্যাকাই টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জুনে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে শরীফুল ৪৮ রানে নেন ৬ উইকেট। সেই ম্যাচ জিতলেই অজিদের ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করতে পারত বাংলাদেশ। তবে তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের পরও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে শরীফুল বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স আলহামদুলিল্লাহ ভালো ছিল। কিন্তু যদি বলেন যে আনন্দ কাজ করছে কি না, তাহলে বলব, তেমন না। যদি ম্যাচটা জিততাম, তাহলে অনেক ভালো লাগত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এর আগে একটা ম্যাচে ৬ উইকেট পেয়েছিলাম; দেশের মাঠে শেষ ওয়ানডেতে। সেই ম্যাচটাও হেরে গেছি। দিন শেষে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কথা হয়তো মনে থাকবে। তবে দল জিতলে অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করত।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্রয়ের পর ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে চার নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। শান্তর দলের সফলতার হার এখন ৫৫.৫৬ শতাংশ। ৬ ম্যাচে ৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০। সবার ওপরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সফলতার হার ৮০ শতাংশ। দুই ও তিনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের সফলতার হার ৭৫ ও ৭২.২২ শতাংশ।