হোম > খেলা > ক্রিকেট

বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং ধসের ব্যাখ্যা কী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

শুরুটা ভালো হলেও শেষ দুই সেশনে ৭ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: এসিবি

আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টের শুরুটা আজ বাংলাদেশ দারুণ করেছিল। যেভাবে বাংলাদেশ এগোতে থাকে, সেক্ষেত্রে ন্যুনতম ৪০০ রান করতেই পারত তারা। কিন্তু হঠাৎ ধসে এখন ৩৫০ রান স্কোরবোর্ডে তুলতে পারে কি না, তা নিয়েই কাজ করছে সংশয়। সাদমান ইসলামও দারুণ শুরুর পর সেটা কাজে লাগাতে না পারায় আফসোস করছেন।

তানজিদ হাসান তামিম-সাদমানের উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। ২২.৫ ওভারে যখন তামিম আউট হয়েছেন, তখন বাংলাদেশের রানরেট ৫.৪৩। কিন্তু নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ৮৪ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৭ রানে। প্রথম দিনের খেলা শেষে সাদমান বলেন, ‘আমরা সকালবেলা আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালোভাবে তাদের (আফগানিস্তান) সামলেছি। ভালো একটা জুটিও হয়েছে আমাদের। কিন্তু লাঞ্চের পর তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে দিন শেষে আজ ৮ উইকেট পড়েছে।’

উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পরও সাদমান-মুমিনুল সাবলীলভাবে এগোতে থাকেন। সাদমান তুলে নেন তাঁর নবম টেস্ট ফিফটি। একটা পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ১৮৪ রান। মুহূর্তেই সেখান থেকে ৫ উইকেটে ২২৫ রানে পরিণত হয় দলটি। যেখানে মুশফিকুর রহিম রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন। আর মুমিনুল হক নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি ব্যাটারের স্কোর ৩৯।

সকালটা দারুণ হলেও দিনের শেষে স্কোরবোর্ডে ৩০০ পার করলেও বেশি উইকেট পড়ায় আফসোস সাদমানের। প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার বলেন, ‘আমরা যে শুরুটা করেছিলাম, সেটা আরেকটু ভালো হতে পারত। পিচ আলহামদুলিল্লাহ ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল। দুর্ভাগ্যবশত বড় একটা জুটির পর হঠাৎ কয়েকটা উইকেট পড়ে গেছে। আফগানিস্তানের বোলাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের আগে দুবাইয়ে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ বাংলাদেশ খেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। একারণেই মরুর বুকে গরম আবহাওয়ায় ব্যাটিং করতে তেমন একটা সমস্যা হয়নি বলে মনে করেন সাদমান। প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘আমাদের মাথায় ছিল যে দুবাইয়ে ভালো একটা গরম মোকাবিলা করতে হতে পারে। আমাদের প্রস্তুতি ক্যাম্পটাও গরমের মধ্যে হয়েছে। এ কারণে ভালোমতো মানিয়ে নিতে পেরেছি। দুবাইয়ে এসে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। সেখানে অনেক গরম ছিল। একারণে এখানে (আবুধাবি) ব্যাটিং করতে তুলনামূলক সহজ মনে হয়েছে।’

ডারউইনে আগস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করেছিলেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। আজ আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে সেটা আর হয়নি। ৭১ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৮৩ রান। পরবর্তীতে সাদমান-লিটনের ফিফটিতে ৩০০ পার করলেও আফগানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অস্বস্তিতে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। সাদমান করেছেন ৬৭ রান। লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। আফগানিস্তানের সেলিম নিয়েছেন ৩ উইকেট।