প্রথম দিনটা বাংলাদেশের, দ্বিতীয় দিনটা পাকিস্তানের, তৃতীয় দিনটা বাংলাদেশের—মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম তিন দিনের সারমর্ম এটাই। কোন দল চালকের আসনে, সেটা হলফ করে বলার কোনো উপায় নেই। মেহেদী হাসান মিরাজের মতে ম্যাচ এখন ‘ফিফটি-ফিফটি’ অবস্থায় আছে।
প্রথম তিন দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ৩৪ রানে এগিয়ে আছে। যার মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রানে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে স্বাগতিকেরা। কোনো রকম চমকপ্রদ কিছু না হলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট পাঁচ দিন পর্যন্তই গড়াবে। এই মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২০৯ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে। ২০১০ সালে এই রান তাড়া করে ৯ উইকেটে জিতেছিল ইংল্যান্ড।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে আজ সংবাদ সম্মেলনে আসেন মিরাজ। স্কোরবোর্ডে কমপক্ষে ৩০০ রান তুলতে পারলে ম্যাচটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করছেন তিনি। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার বলেন, ‘অবশ্যই এখনো দুই দিন বাকি আছে। ম্যাচের ফল অবশ্যই ফিফটি-ফিফটি। কারণ, আমরা লিড বেশি পাইনি এবং আমাদের অবশ্যই দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। কারণ, মিরপুরে কত রান নিরাপদ সেটা আপনি বলতে পারবেন না। তবে নুন্যতম একটা রান করতে পারি যেটা বোলাররা আটকাতে পারি। আমার কাছে মনে হয় যে প্রায় ২৯০ বা ৩০০ রান একটা ভালো স্কোর হতে পারে। কারণ, এই উইকেটে চার পাঁচ নম্বর দিনে অনেক কঠিন হবে। তবে প্রত্যেক ব্যাটারের এই দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।’
ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতির পাশাপাশি বাউন্সারে ব্যাটারদের ভড়কে দিতে ওস্তাদ নাহিদ রানা। কখনো কখনো ইয়র্কার লেংথে ফেলে স্টাম্প উপড়ে ফেলেন তিনি। তবে মিরপুরে চলমান প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটাররা তাঁকে বেশ স্বচ্ছন্দে খেলেছেন। ২১ ওভারে ১০৪ রানে পেয়েছেন ১ উইকেট। যেখানে আজ তৃতীয় দিনে ২ ঘণ্টা বৃষ্টিতে বন্ধ থাকার পর বিকেলে খেলা শুরু হলে পাকিস্তান ৩৭ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে গেছে। শুরুটা করেছেন সালমান আলী আঘাকে (৫৮) ফিরিয়ে। এরপর নোমান আলী (২) ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে (১৩) ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪ বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন মিরাজ। আর হাসান আলীকে (৬) বোল্ড করে সফরকারীদের ইনিংসের ইতি টেনেছেন তাইজুল ইসলাম।
রানার কারণেই পাকিস্তানকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন মিরাজ। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার বলেন, ‘হ্যাঁ, রানা তো ভালো বোলিং করেছে। আর আমার কাছে মনে হয় যে প্রথম দুই স্পেল একটু খরুচে ছিল। তবে আমরা তাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছি এবং সে একটা ব্রেকথ্রু দিয়েছে। সেটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।বোলাররা খালি একটা জায়গায় বোলিংয়ের চেষ্টা করেছি। আমাদের প্রত্যেককে একটা বার্তাই দেওয়া হয়েছিল যে আমরা যদি ভালো জায়গায় নিয়মিত বোলিং করতে পারি, তাহলে সুযোগ চলে আসবে। আমরা শুধু এটাই করেছি।’
নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি (১০১) এবং মুমিনুল হক (৯১), মুশফিকুর রহিমের (৭১) জোড়া ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে গেছে। পাকিস্তানের অভিষিক্ত ব্যাটার আজান আওয়াইস ১৬৫ বলে ১৪ চারে করেছেন ১০৩ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬০ রান করেছেন আরেক অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল। সফরকারীদের ১০ উইকেটের সাতটিই বাংলাদেশ পেয়েছে ঘূর্ণিজাদুতে। মিরাজের ৫ উইকেটের পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।