মোবাইল ফোন জব্দের ঘটনায় আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের দ্বারস্থ হয়েছেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। ফোন জব্দ ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে আইসিসির কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি।
শুক্রবার জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইসিসির অনলাইন পোর্টালে আবেদন করে রিজওয়ান জানতে চেয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে আইসিসি কিংবা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষ অবগত ছিল কি না। এ ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ভবিষ্যতে দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার জন্য কী করতে হবে, সে বিষয়েও আইসিসির নির্দেশনা চেয়েছেন রিজওয়ান। তবে সূত্র জানিয়েছে, তাঁর আবেদন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়। বরং নিজের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়াই পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের উদ্দেশ্য।
লর্ডস টেস্টের পর জব্দ হয় ফোন
ইংল্যান্ডে লর্ডস টেস্টের পর রিজওয়ানকে একটি হোটেলের লবিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাঁর আইনজীবী কাজী উমাইর আলী বৃহস্পতিবার লাহোর হাইকোর্টে শুনানির সময় এ তথ্য জানান।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের আগে রিজওয়ানকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তিন ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে এখনো ফোনটি ফেরত পাননি তিনি।
রিজওয়ানের আইনজীবী এনসিসিআইএর এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর যুক্তি, ক্রিকেটারদের দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট।
তবে বৃহস্পতিবার লাহোর হাইকোর্ট রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে তাঁকে এনসিসিআইএর নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।
কী নিয়ে তদন্ত
পাকিস্তান ক্রিকেটে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ে এনসিসিআইএর তদন্ত চলছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তান দলের ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগের সঙ্গেও তদন্তটির যোগসূত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে লাহোরে এনসিসিআই-এর কার্যালয়ে হাজিরা দেন রিজওয়ান ও ইমাম উল হক। তদন্তের অংশ হিসেবে সংস্থাটি তাঁদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করেছে। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনসহ অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও পরীক্ষা করেছে বলে জানা গেছে।
তবে রিজওয়ান বা ইমামের বিরুদ্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে এনসিসিআইএর কাছে লিখিত জবাব দিয়ে তাঁকে তলব করার কারণ, কথিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এবং মোবাইল ফোন ফেরত না দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়েছিলেন রিজওয়ান।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে লর্ডসে হারের পর পাকিস্তান দল থেকে ছেড়ে দেওয়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম।