ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মাইকেল ভন। লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর সফরকারীদের ব্যাটিংকে দ্বিতীয় বিভাগের কাউন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে তুলনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে চোট কাটিয়ে নিয়মিত অধিনায়ক বাবর আজম একাদশে ফিরলেও ব্যাটিংয়ের চিত্র বদলায়নি। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন ওপেনার আজান আওয়াইস। বাবর ৮, আবদুল্লাহ শফিক ৫, শান মাসুদ ১ এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান ৭ রানে আউট হন। দলের বেশির ভাগ ব্যাটারই ব্যর্থ হওয়ায় ১১০ রানেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ১৮০ রানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড করেছিল ২৯০ রান।
পাকিস্তানের বাজে ব্যাটিংয়ের পর বিবিসির টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল-এ ভন বলেন, ‘আমি একেবারেই খোলাখুলি বলব। ইংল্যান্ডের বোলারদের কোনো চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হচ্ছে না। এই পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপ সম্ভবত দীর্ঘদিনের মধ্যে আমার দেখা সবচেয়ে সহজ ব্যাটিং লাইনআপগুলোর একটি, যাদের বিপক্ষে বোলিং করা যায়।’
ইংল্যান্ডের বোলাররা পাকিস্তানের বিপক্ষে নিশ্চিন্তে বোলিং করতে পারছেন বলেও মনে করেন ভন, ‘একজন বোলার হিসেবে আমার মনে হয়, সবাই বোলিং করার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, কারণ তারা জানে এখানে উইকেট পাওয়া যাবে। এমন কোনো ব্যাটার নেই, যে তাদের ক্ষতি করতে পারবে। কেউ তাদের বোলিং ফিগার নষ্ট করবে না।’
এরপর পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের মান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন ভন। তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের বোলাররা জানেন প্রতিপক্ষ বড় সংগ্রহ গড়তে পারবে না, তাই প্রতিটি স্পেলে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা।
ভন বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা সবাই জানে পাকিস্তান বড় স্কোর করতে পারবে না। তাই তোমাদের মাঠে থাকতে হবে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ ওভার। ফলে প্রতিটি স্পেলেই সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া যায়। এখানে এত বেশি উইকেট রয়েছে।’
পাকিস্তানের বাজে ব্যাটিংয়ের সমালোচনা করার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের প্রশংসাও করেছেন ভন। তাঁর মতে, এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে আরও শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষেও কার্যকর হতে পারে ইংলিশ বোলাররা। পাকিস্তানের বর্তমান ব্যাটিংকে টেস্ট ক্রিকেটের মানদণ্ডে ফেলতে নারাজ তিনি।
এই প্রসঙ্গে ভন বলেন, ‘এটা খুবই সহজ। অবশ্যই তারা ভালো বোলিং করছে এবং যথেষ্ট ভয়ংকর দেখাচ্ছে। এই বোলিং আক্রমণ যেভাবে বল করছে, তারা যদি এভাবেই খেলতে থাকে, তাহলে আরও ভালো ব্যাটিং লাইনআপকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে। কিন্তু এটা পাকিস্তানের ব্যাটিং। এটা কি দ্বিতীয় বিভাগের কাউন্টি ক্রিকেট? কোনোভাবেই এই ব্যাটিংকে এমন মানের বলা যায় না, যাতে বলা যায়—এটি একটি টেস্ট ম্যাচের ব্যাটিং লাইনআপ।’