ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে এমনিতেই কঠিন অবস্থায় রয়েছে পাকিস্তান। তৃতীয় দিন শেষে ৩৫৭ রানের বিশাল লিড নিয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড। এমন পরিস্থিতিতে সফরকারী দলে বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে এসেছে ইমাম উল হকের চোট।
বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে চোটের কারণে এই টেস্টের বাকি অংশে ইমামের খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সেরে উঠতে তাঁকে ১০ দিনের বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই ব্যাটারকে ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ইমামের মাঠে নামা প্রায় অসম্ভব বলেই জানিয়েছে ইএসপিএনক্রিকইনফো।
চলমান টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে স্ক্যান করানো হয় ইমামের। এরপরই তাঁর চোট সম্পর্কে জানা যায়। প্রথম দিন চা-বিরতির পর আর মাঠে নামেননি তিনি। তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সালমান আলী আগা।
দ্বিতীয় দিন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসেও ব্যাট করতে পারেননি ইমাম। ইংল্যান্ডের ২৯০ রানের জবাবে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ইমামকে না পাওয়ার শঙ্কা দলটির জন্য মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।
হেডিংলি টেস্টে ব্যাটিংয়ের সময় চোট পেয়েছিলেন ইমাম। প্রথম ইনিংসে ৪২ রান করার সময়ই বাঁ পায়ের কাফে সমস্যা অনুভব করেন তিনি এবং মাঠে দলের মেডিকেল প্যানেলের সহায়তা নিতে হয়। ইনিংসজুড়ে তার বাঁ পায়ের কাফে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। আবদুল্লাহ শফিকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে তাঁর ৯১ রানের জুটির পর ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ১৭১ রানে গুটিয়ে যায় দলটি। ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরে যায় পাকিস্তান।
লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাঁ পায়ের কাফ পেশির স্ট্রেইনের চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের বাকি অংশে ইমামের অংশগ্রহণ। তবে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তাঁর চোটের অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আলী।
সাংবাদিকদের আলী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপনাদের কিছু বলতে পারব না। তার অবস্থা সম্পর্কে আমি জানি, তবে দলের মেডিকেল প্যানেলই এ বিষয়ে আপনাদের আরও ভালোভাবে জানাতে পারবে।’
ইমামের সম্ভাব্য অনুপস্থিতি এমন এক সময়ে পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা, যখন ম্যাচ বাঁচাতেই তাদের সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। এই টেস্ট বড় লক্ষ্য তাড়া করতে হবে পাকিস্তানকে। সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে লর্ডসে জয়ের বিকল্প নেই সফরকারীদের।