শ্রীলঙ্কায় দুই বছর আগে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে যা হয়েছিল, এবার গ্রুপপর্বেও হলো তারই পুনর্মঞ্চায়ন। ২০২৪ নারী এশিয়া কাপে সেমিফাইনালের লাইনআপ ছিল বাংলাদেশ-ভারত, শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান। এবারও এই চারটি দলই উঠেছে প্রতিযোগিতার শেষ চারে। শেষ চারের লাইনআপও একই।
দুই সেমিফাইনালের প্রথমটি হবে আজ। ফেবারিট ভারতের মুখোমুখি ২০১৮ নারী এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। দুবাইয়ে ফাইনালের ওঠার লড়াইটি নিগার সুলতানা জ্যোতিদের জন্য প্রতিশোধের ম্যাচও। সবশেষ মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরে সেমিতেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই হারের শোধ নিতে পারবে বাংলাদেশ!
‘শোধ’ নিতে চাইলে নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। বরাবরই দলের অস্বস্তির জায়গা ব্যাটিং। এই টুর্নামেন্টেও তা দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তুলেছিল ১১৪ ও ১২৯ রান। আর পরশু গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১০৩ রান করেও যে জিতল বাংলাদেশ, তাতে বোলারদেরই বেশি অবদান।
আমিরাত ম্যাচে শারমিন আক্তার সুপ্তা ৩১ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৮ রান না করলে হয়তো বিদায়ও নিতে হতো বাংলাদেশকে। কঠিন এই পরীক্ষায় উতরাতে পেরে বাংলাদেশ এখন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী বলেই মনে করেন শারমিন। নিজের ইনিংস নিয়ে বলতে গিয়ে বললেন, ‘সত্যি বলতে, মাঝে মাঝে এমনটা ঘটতেই পারে। সেই পরিস্থিতিতে আমার মনে হয়েছিল, এক প্রান্তে টিকে থেকে টেল-এন্ডারদের সঙ্গে জুটি গড়া দরকার। শুরুতেই ৫-৬ উইকেট হারালে এগোনো কঠিন হয়ে যায়। কিছুটা চাপ তো ছিলই। তবে নাহিদা তখন দারুণ ব্যাটিং করেছে, সে আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।’
মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে ভারত-বাংলাদেশের অতীত লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ভারত। দুই দলের ২৪ সাক্ষাতের মাত্র তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। যার একটি এই এশিয়া কাপেই ২০১৮ সালের ফাইনালে। আজকের সেমিফাইনালের আগে সেই ফাইনালের জয় নিশ্চিয়ই প্রেরণা হবে জ্যোতিদের। তবে ভারতের বিপক্ষে খেলাটাকে ‘চাপ’ হিসেবে না নেওয়ার কথা বললেন সুপ্তা, ‘ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে এমন দলের বিপক্ষেই খেলতে হবে। তাদের মতো দলের বিপক্ষে খেলাটা চাপ নয়। আমরা উপভোগ করি।’