হোম > খেলা > ক্রিকেট

বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়াচ্ছে বিসিবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়াচ্ছে বিসিবি। ছবি: বিসিবি

এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। বিপিএল না হওয়া মানে ক্রিকেটারদের আয়-রোজগার কমে যাওয়া। বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটারদের ‘ক্ষতিপূরণে’ ম্যাচ ফি বাড়ানো হচ্ছে বলে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

বিপিএল না হলে রুটিরুজিতে টান পড়বে—দুই বছর আগে ক্রিকেটাররা তখনকার পরিচালনা পর্ষদের ওপর এভাবেই চাপ প্রয়োগ করেছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে। এবার বিপিএল না হলে বিসিবি কীভাবে আর্থিকভাবে পুষিয়ে দেবে ক্রিকেটারদের, সেটি নিয়ে তামিমদের সঙ্গে গত কদিনে দুবার বসেছিল ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। ক্রিকেটারদের স্বার্থ সব সময় তামিমের কাছে বড়, মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে সেটিই বললেন বিসিবি সভাপতি, ‘এ বছর বিপিএলটা না হওয়ার কারণে আর্থিকভাবে একটা কিছু হয়েছে। কিন্তু আমি কোনো সময় এক বছরের সমাধান চাইনি ক্রিকেটারদের জন্য। আমি চেয়েছি যে এমন কোনো সমাধান আসুক যাতে বছরের পর বছর ক্রিকেটাররা উপকৃত হয়। আর ৬০ ক্রিকেটারের জন্য কেন, যদি করতে হয়, যারা যারা খেলে তাদের জন্য করতে হবে। নারী ক্রিকেটারদের জন্য করতে হবে। সবার জন্য করতে হবে।’

তামিম বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার ঠিক দুই মাস পর স্থায়ীভাবে বিসিবি সভাপতি হয়েছেন তামিম। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি থাকতেই ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক, ম্যাচ ফি বাড়িয়েছিলেন তামিম। বিপিএল না হওয়ায় বিসিবির ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিটি পর্যায়ে যে পারিশ্রমিক বাড়ছে ক্রিকেটারদের, সেটি তুলে ধরলেন তামিম, ‘চার দিনের ম্যাচে তাদের ম্যাচ ফি ছিল ৭০ হাজার টাকা। আমি অ্যাডহক কমিটিতে এসে সেটাকে ১ লাখ টাকা করেছিলাম। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত একটা ম্যাচও কিন্তু হয়নি। কিন্তু ৭০ হাজার টাকাই আমি ধরে রাখলাম। সেখান থেকে এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেকোনো ক্রিকেটার যখন খেলবে, দেড় লাখ টাকা করে পাবে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০ হাজার টাকা ছিল। সেটা ১ লাখ টাকা করে পাবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০০০ টাকা করা হয়েছিল। এবার তারা ৮০০০০ টাকা করে (ম্যাচ ফি) পাবে।’

এবার বিপিএল বন্ধ নয়, আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি তামিমের। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এই ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আরও সুন্দর করে আয়োজন করা হয়, সেটা নিয়েই ভাবছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সুন্দরভাবে বলতে বিসিবি বিসিবির অংশ ভালো করে দেখবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের অংশ দেখবে। সুন্দর-পরিচ্ছন্ন বিপিএল আয়োজনের চেষ্টা করব। এটার জন্য যদি আমার একটু সময় লাগে, এটার জন্য যদি কিছু কিছু মানুষের কষ্ট হয়, খারাপ লাগে, মেনে নিলাম। ক্রিকেটাররা যে হতাশ, সেটা আমি মানি। হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে কিছু সিদ্ধান্ত আমাকে নিতে হবে। নিচ্ছিও সেটা। সে ব্যাপারে আমি ৩০ বার ভাবব না কে কী মনে করেছে, কে কী বলেছে। কারণ, গত দুই-তিন বছরে কী কী হয়েছে, এটাও আমি দেখেছি।’

ম্যাচ ফি বাড়ানোয় একজন ক্রিকেটার বছরে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আয় করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তামিম। তবে একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের কাছে থেকেও আরও বেশি পেশাদারি চান বিসিবি সভাপতি, ‘এটা এখন ওদেরও (ক্রিকেটারদের) পূরণ করতে হবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। ওটাতে কোনো ছাড় নেই। যখন কেউ ফিটনেস টেস্ট পাস না করে এটা নিয়ে অনুরোধ করে...এসব কিছু শোনা হবে না।’