চোখের পলক পড়তে না পড়তেই উইকেট পড়ছে। শুধু পাকিস্তানেরই নয়, লর্ডসে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট পড়ছে ইংল্যান্ডেরও। পেসারদের সুইং-গতিতে পরাস্ত হচ্ছেন ব্যাটাররা। এমন বিরুদ্ধ কন্ডিশনে দাঁড়িয়ে ‘ভঙ্গুর’ পাকিস্তানকে ভাঙতে হবে ৪২ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড।
লর্ডসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৪৩ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেটাও ক্যারিবীয়রা করেছে ১৯৮৪ সালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বছর আগে ক্যারিবীয়রা জেতে ৯ উইকেটে। এবার পাকিস্তানকে তাড়া করতে হবে ৩৮৯ রান। যদি বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান এটা করতে পারে, তাহলে লর্ডসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তিটা হবে তাঁদেরই।
বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৭৭ রানে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের নামের পাশে তখন ৪৬.৫ ওভার। তবে দিনের খেলা শুরুর আট ওভারের মধ্যেই গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। ৫৬.২ ওভারে ইংল্যান্ড ২০৮ রানে অলআউট হয়েছে। যেখানে ৫৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ আলীকে কাভারে ঠেলে জফরা আর্চার দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন সিঙ্গেল নেওয়া নিয়ে। শেষ পর্যন্ত দৌড়ালেন। তবে জশ টাঙ স্ট্রাইকপ্রান্তে পৌঁছানোর আগেই সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দিলেন বাবর আজম।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৪ রান আসে ড্যান লরেন্সের ব্যাটে। টেস্টে এটা তাঁর ষষ্ঠ ফিফটি। পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস ৫৭ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। টেস্টে এই নিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন আটবার। ১৮০ রানের লিডসহ ইংল্যান্ডের রান হয়েছে ৩৮৮ রান। ৩৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭.১ ওভারে ৩ উইকেটে করেছে ১৪ রান। এর আগে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ১১০ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল। টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া ইংল্যান্ড নিজেদের প্রথম ইনিংসে সব উইকেট হারিয়ে করেছিল ২৯০ রান।
লর্ডসে চতুর্থ ইনিংসে একবারই ৩০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি রয়েছে। সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৯৮৪ সালে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮২ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি রয়েছে দুটি। যার মধ্যে একটি গত বছর ২০২৩-২৫ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে। অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বাদ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাকিস্তানের জন্য ৪২ বছরের রেকর্ড ভাঙা কতটা কঠিন, সেটা তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তান হেরেছিল ইনিংস ও ১০৩ রানে। হেডিংলিতে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছিল তিন দিনে।