সেঞ্চুরির পর তামিম ইকবালের শূন্যে উড়ে উদযাপন। ১৭ বছর আগে তামিমের সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের দৃশ্য দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে এখনো টাটকা। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির ভেন্যু লর্ডসে খেলার অপেক্ষা অবশেষে ফুরোচ্ছে। আগামী বছর এই ভেন্যুতে টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আজ নিজেদের ওয়েবসাইটে ২০২৭ সালের ঘরের মাঠের সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে। লর্ডসে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজের একমাত্র টেস্ট শুরু হবে ২৮ মে। আগামী বছর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকেও আতিথেয়তা দেবে ইংল্যান্ড। সেপ্টেম্বরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল।
বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির প্রত্যেকটিই হবে আলাদা ছয় ভেন্যুতে। নর্দাম্পটনে ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। অপর দুই টি-টোয়েন্টি হবে ১০ ও ১২ সেপ্টেম্বর। শেষ দুই টি-টোয়েন্টির ভেন্যু টন্টন ও ওরচেস্টার। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ১৭ সেপ্টেম্বর হতে যাওয়া প্রথম ওয়ানডের ভেন্যু হোভ। ক্যান্টারবুরিতে দ্বিতীয় ওয়ানডে হবে ২১ সেপ্টেম্বর। শেষ ওয়ানডের ভেন্যু চেমসফোর্ড। এই ম্যাচ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর।
বাংলাদেশের পুরুষ-নারী ক্রিকেট দলকে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়াকেও আগামী বছর আমন্ত্রণ জানাবে ইংল্যান্ড। পাকিস্তান ছেলেদের ক্রিকেট দল পাঁচ ওয়ানডে খেলবে ইংল্যান্ডে। ছেলেদের অ্যাশেজ, মেয়েদের অ্যাশেজ—উভয়ই হচ্ছে আগামী গ্রীষ্মে। ছেলেদের অ্যাশেজে পাঁচ টেস্ট হবে। নারী অ্যাশেজে এক টেস্টের পাশাপাশি তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি হবে। বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড বলেন, ‘আমরা লর্ডসে এক টেস্টের জন্য বাংলাদেশ ছেলেদের স্বাগত জানাতে পেরে উচ্ছ্বসিত। ২০১০ সালের পর ঘরের মাঠে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। একই সঙ্গে আমরা একটি সাদা বলের সিরিজে বাংলাদেশ নারী দলকেও আতিথেয়তা দেব।’
লর্ডসে ২০১০ সালে তামিম সেঞ্চুরি করেছিলেন ৯৪ বলে। যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরি। তখন বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসেননি। কালের পরিক্রমায় সেই তামিম এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি। যদি তিনি মাঠে বসে শান্ত-লিটনদের খেলতে দেখেন, তাহলে নিশ্চয়ই ১৭ বছর আগের সেই স্মৃতি বর্তমান বিসিবি সভাপতিকে উদ্বেলিত করবে।
লর্ডসে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দুই টেস্ট খেলেছে। ২০০৫ সালে হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে ইনিংস ও ২৬১ রানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক মুশফিকুর রহিমের। এরপর ২০১০ সালে বাংলাদেশ হেরেছিল ৮ উইকেটে। এবার লর্ডসে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের কারণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের ভেন্যু বদলে গেছে। আগামী বছরের ৯ থেকে ১৩ জুন ওভালে হবে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের ফাইনাল।