এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করবে না বিসিবি। টুর্নামেন্টের কাঠামোগত সংস্কারেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয় সামনে এনেছে বিসিবি। সেই সংস্কারের কাজ শেষ করতে গিয়ে এ বছর বিপিএল আয়োজন করা না গেলেও আপত্তি নেই গত আসরের তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির।
গতকাল বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয় ঢাকা ক্যাপিটালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রাইডার্স। গত আসরের বাকি তিন দলের মধ্যে একটি ছিল বিসিবির মালিকানায়। সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোনো প্রতিনিধি বৈঠকে ছিলেন না।
গত আসরের আগে পাঁচ বছরের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দল বরাদ্দ দিয়েছিল বিসিবি। সে হিসাবে নিয়মিত সূচি অনুযায়ী এবারও বিপিএল হওয়ার কথা। তবে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের লক্ষ্য, পুরোনো ধাঁচে আর টুর্নামেন্ট না চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই একটি কাঠামো তৈরি করা। বৈঠকে অংশ নেওয়া তিন ফ্র্যাঞ্চাইজিই সেই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে।
রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক জানান, বিপিএলকে এগিয়ে নিতে বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর যৌথভাবে কাজ করা জরুরি। তাঁর মতে, এক দশক ধরে টুর্নামেন্টটি হলেও এখনো এর স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়নি।
ইশতিয়াক বলেন, ‘বিপিএলের সংস্কার প্রয়োজন। আমরা গত ১০ বছর ধরে আছি, কিন্তু আমাদের কোনো গঠনমূলক ধারণা নেই, টেকসই কোনো মডেল নেই। এই মডেলগুলোকে যদি বিসিবি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একসঙ্গে উন্নতি করতে পারি, বিপিএলের জন্য লম্বা মেয়াদে অনেক ভালো হবে।’
এবারের বৈঠকে ভবিষ্যৎ বিপিএলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যালেন্ডারের দাবিও জানিয়েছে রংপুর। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান মোকছেদুল কামাল বাবুও একই সুরে কথা বলেছেন। মোকছেদুল বলেন, ‘হঠাৎ করেই বিপিএলের তারিখ হয়ে যায় এবং তখন খুবই তড়িঘড়ি করে কাজ করতে হয়। সেটা আমাদের জন্য খুব ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। এজন্য আমরা বলেছি বা বিসিবি চিন্তা করেছে পাঁচ বছর বা একটা লম্বা সময়ের জন্য বিপিএলের রোডম্যাপ তৈরি করার। সেই অনুযায়ী বিপিএল পরিচালিত হবে।’
ঢাকা ক্যাপিটালসও বিসিবিকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে প্রস্তুত। দলটির প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদের মতে, বিসিবির পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে বিসিবি, ফ্র্যাঞ্চাইজি, খেলোয়াড়—সব পক্ষই লাভবান হবে। তবে পুরোনো কাঠামোয় বিপিএল আয়োজন করলে ঢাকা ক্যাপিটালস আর থাকবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি, ‘গত দুই বছর যেভাবে ছিল, ওভাবে করলে থাকব না। আমরা টাকা এবং সময় বিনিয়োগ করি ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য, কিন্তু দিনশেষে মানুষ আমাদের গালি দেয়। একইভাবে বিপিএল হলে আমি আবার অপমানিত হব। তাই এমন মডেল তৈরি করতে হবে, যেটা সবার জন্য লাভজনক হয়। তাহলেই আমরা আবার আসব।’