অঘটন ঘটানোর কাছাকাছি প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিল জাপান। প্রথম সাক্ষাতেই জাপানের কাছে আরেকটু হলে হারতে পারত ভারত। কিন্তু সানোতে গতকাল তীরে এসে তরী ডুবল জাপানের। এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচ ছাপিয়ে এক বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে চলছে সমালোচনা। কাঠগড়ায় শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারত।
বৃষ্টির কারণে ভারত-জাপান টি-টোয়েন্টির দৈর্ঘ্য কমে আসে পাঁচ ওভারে। সানোতে গতকাল সব রোমাঞ্চ জমা ছিল শেষ ওভারের জন্যই। অক্ষর প্যাটেল ওয়াইড দিলে জাপান জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে। কিন্তু আম্পায়ারের এমন সিদ্ধান্তে অক্ষর-আইয়াররা রীতিমতো হতভম্ব হয়ে যান। মাঠেই আম্পায়ারকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে ওয়াইড দেওয়া উচিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওয়াইডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আম্পায়ারের হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলে ফেলায় ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছেন উইজডেন ম্যাগাজিনের এক ক্রিকেট লেখক বেন গার্ডনার। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটাতে যখন আর মাত্র ৪ রান দরকার, তখন ভারতের খেলোয়াড়েরা আম্পায়ারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করল। তাতে জাপানের পক্ষে দেওয়া ওয়াইডের সিদ্ধান্ত আম্পায়াররা শেষ পর্যন্ত বদলে দিলেন। সত্যিই লজ্জাজনক।’
বিতর্কিত ঘটনাটা কী, সেটা একটু দেখে নেওয়া যাক। ৫ ওভারে ৩৩ রানের লক্ষ্যে নামা জাপানের শেষ চারে দরকার ছিল ৭ রান। অক্ষরের করা ওভারের তৃতীয় বলে রিভার্স-শটের চেষ্টা করেন জাপানের বাঁহাতি ব্যাটার আলেকজান্দার শিরাই-পাতমোর। তিনি ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে পরেননি। বলটি লেগসাইড দিয়ে চলে গিয়েছে মনে করে জাপানের আম্পায়ার ক্রিস থারগেট ওয়াইডের সংকেত দেন। পরের বলে একই রকম ঘটনা ঘটলে এবারও ওয়াইড দেন থারগেট। তখন প্যাটেল-আইয়াররা মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারেননি। আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে লেগ আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউন হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি (ব্রাউন) থারগেটকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বলেন। থারগেট এরপর ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার রিভার্স বা সুইচ-হিটের চেষ্টা করলে উইকেটের দুই পাশকেই অফ সাইড ধরা হবে। অর্থাৎ বল অফ স্টাম্প থেকে ৭৫ সেন্টিমিটারের বেশি দূরে গেলেই তা ওয়াইড বলে গণ্য হবে। সেই হিসেবে থারগেটের ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বদলানো যুক্তিযুক্ত। কিন্তু একবার নিজের সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর সেটা এভাবে বদলে ফেলা নিয়েই চলছে সমালোচনা।
বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল জাপান-ভারত টি-টোয়েন্টি। কিন্তু বৃষ্টির বাগড়ায় দফায় দফায় মাঠ পর্যবেক্ষণ করা হয়। বেলা ১টা ৫ মিনিটে খেলা শুরু হলে ৫ ওভারে নিয়ে আসা হয়। ভারত আগে ব্যাটিং নিয়ে ৫ ওভারে ৪ উইকেটে করে ৩২ রান। সর্বোচ্চ ১৬ রান করা আইয়ার হয়েছেন ম্যাচসেরা। ১২ বলের ইনিংসে কেবল এক চার মারেন তিনি। জাপান ৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৩০ রানে আটকে যায়।
নিসশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটের ম্যাচগুলো হবে। ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে জাপান, আফগানিস্তান ও নেপাল। ‘বি’ গ্রুপে হংকং, ওমানের সঙ্গে রয়েছে মালয়েশিয়া। তবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এরই মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে। ভারতের ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর। তবে প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে ‘এ’, ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচগুলো শেষে। আইয়ার-প্যাটেলদের জাপানের বিপক্ষে খেলা কেবল কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই।