নড়বড়ে নব্বইয়ের ঘরে কিছুটা দেখেশুনেই খেললেন তানজিদ হাসান তামিম। অপেক্ষা ফুরাল নাথান লায়নের করা ৬৪তম ওভারের শেষ বলে। সিঙ্গেল নিয়েই হেলমেট খুলে, ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন শুরু করেন তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি বলে কথা।
তানজিদের সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার উচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে ডাগআউটেও। উঠে দাঁড়িয়ে এই ওপেনারকে অভিনন্দন জানান সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফরা। সবার মুখে তখন যেন বড় প্রাপ্তির ছাপ।
তানজিদের সেঞ্চুরিটা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কিছুই। দীর্ঘ ২০ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেল বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার। এর আগে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফতুল্লা টেস্টে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শাহরিয়ার নাফিস। এত দিন টেস্টে সেটাই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের একমাত্র সেঞ্চুরি। এবার নাফিসের পাশে বসলেন তানজিদ।
গত মে মাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তানজিদের। সে ম্যাচের দুই ইনিংসে করেন ২৬ ও ৪ রান। ডারউইনে খেলতে নেমেছিলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট। আর এই ম্যাচেই প্রথম ফিফটির দেখা পান। দ্বিতীয় টেস্টে ফিফটির পর কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল ফিগারের দেখাও পেয়ে গেলেন তানজিদ।
সেঞ্চুরি করতে ১৮৮ বল খেলেন তানজিদ। এরপর অবশ্য বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকতে পারেননি। নাথান লায়নের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিচেল স্টার্কের হাতে ধরা পড়েন। তার আগে ৮ চার ও ১ ছক্কায় করেন ১০১ রান।
অস্ট্রেলিয়ার করা ১৯৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির পরই লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদের। উদ্বোধনী জুটিতে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ৩৬ রানের পর দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হককে নিয়ে ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। আউট হওয়ার আগে শান্তকে নিয়ে ৯৩ রান যোগ করেন তানজিদ।