সিরিজে ফিরতে লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না পাকিস্তানের। কিন্তু বৃষ্টিবিঘ্নিত এই টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে বাজেভাবে হারল বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। সিরিজ হারের পাশাপাশি এশিয়ার দলটি ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে এক বিব্রতকর রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে।
হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরে যাওয়া পাকিস্তান লর্ডসে হেরেছে ১৯৪ রানে। টানা দুই টেস্ট হারে সাদা পোশাকের এই সংস্করণে দলটির জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে পাকিস্তান জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ।
পাকিস্তানের প্রতিবেশী ভারতের অবস্থাও একই রকম। যত ম্যাচ জিতেছে, তার চেয়ে এক টেস্ট বেশি হেরেছে ভারত। ১৮৭ টেস্ট জয়ের বিপরীতে ভারত হেরেছে ১৮৮ টেস্টে। ২২৫ টেস্ট ড্র করেছে ও টাই করেছে ১ টেস্ট। তবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে প্রতিবেশী পাকিস্তানের ২০ বছর আগে থেকে খেলা শুরু করছে ভারত। ১৯৩২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ভারত ৬০১ টেস্ট খেলেছে। সবশেষ কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও শুবমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সোনাল দিনুশার বীরত্বপূর্ণ সেঞ্চুরিতে লঙ্কানরা ম্যাচ ড্র করেছে।
ভারত-পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশও টেস্টে ১০০ বা তার বেশি ম্যাচ হেরেছে। তবে জয়-পরাজয়ের অনুপাত এখানে বাংলাদেশের অনেক বেশি খারাপ। ২৬ বছরের ইতিহাসে ১৬১ টেস্ট খেলে বাংলাদেশ জিতেছে কেবল ২৮ ম্যাচ। হেরেছে ১১৪ টেস্ট ও ১৯ টেস্ট ড্র করেছে। তবে সম্প্রতি নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে টেস্টে দারুণ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া সফরে ১-১ সমতায় টেস্ট সিরিজ ড্র করেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ এ বছর পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছে। যা ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা চার জয়।
টেস্ট খেলুড়ে ১২ দলের মধ্যে হারের চেয়ে জয়ের সংখ্যা বেশি কেবল অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার। ১৮৭৭ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৮৮৪ টেস্ট খেলে জিতেছে ৪২৭ ম্যাচ এবং ২৩৬ ম্যাচ। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.৮০৫। ইংল্যান্ডও টেস্ট খেলছে ১৮৭৭ থেকে। ৪০৭ টেস্ট জয়ের বিপরীতে হেরেছে ৩৩৬ টেস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে খেলেছে ৪৭৯ ম্যাচ। জিতেছে ১৯১ টেস্ট, হেরেছে ১৬২ ম্যাচ ও ড্র করেে ১২৬ টেস্ট। প্রোটিয়ারা টেস্ট খেলা শুরু করেছে ১৮৮৯ সাল থেকে।
টেস্টের কনিষ্ঠতম সদস্য আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড দুই দলই ১৩টি করে ম্যাচ খেলেছে ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে। আফগানরা জিতেছে চার টেস্ট। আয়ারল্যান্ড তিন টেস্টে জয় পেয়েছে।