পৃথিবী বদলে গেছে, যা দেখি নতুন লাগে—বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কিশোর কুমারের বহুল জনপ্রিয় এই গান হয়তো অ্যালান ডোনাল্ড জানেন না। তবে সম্প্রতি তিনি যা বলেছেন, সেটা অনেকটা এই গানেরই প্রতিধ্বনি। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসারের মতে অস্ট্রেলিয়া এখন অনেক বদলে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ ২৩ বছর পর তাদের ডেরায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের বেশি দিন হয়নি। অথচ নাজমুল হোসেন শান্ত-হাসান মাহমুদ-মেহেদী হাসান মিরাজরা ২০০৩ সালে সেখানে খেলা তো দূরে থাক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তখন অভিষেক হয়নি। আগস্টে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যা করেছে, তাতে মুগ্ধ ইয়ান বিশপ-রিকি পন্টিং-মার্ক ওয়াহর মতো ক্রিকেট কিংবদন্তিরা। স্পোর্টসবুম ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় অনেকেই হতাশায় ভুগছেন। বাংলাদেশের কাছে তারা বাজেভাবে ধরা খেয়েছে। অজিরা এখন বদলে গেছে।’
২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ ছিলেন ডোনাল্ড। আগস্টে ডারউইনে বাংলাদেশ যে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে, সেটার কারিগর পেসাররাই। প্রথম ইনিংসে ১০ উইকেটের সবকটিই তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদ ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন। দুটি করে নেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী। আর সব মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান মাহমুদ।
ম্যাকাইতে দুই দিনে শেষ হওয়া দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হারলেও শরীফুল ইসলাম ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে বিদেশের মাঠে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েছেন। এক সময় বাংলাদেশের কোচ ছিলেন বলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে হাসান-ইবাদতদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ডোনাল্ড। বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলিং কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক কোচ হওয়ায় এমনটা দেখে ভালো লাগছে। মনোযোগ দিয়ে খেললে বাংলাদেশ কতটা ভালো খেলতে পারে,সেটাই দেখলাম। তবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা অনেক দিন ধরে ধুঁকছে।’
বিংশ শতাব্দীর শেষ থেকে একবিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া খেলত দাপট দেখিয়ে। স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিং, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, শেন ওয়ার্ন, অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের তারকাখচিত দলের বিপক্ষে জেতাটাই প্রতিপক্ষ দলের জন্য অনেক কঠিন পরীক্ষা। ডোনাল্ড নিজেও খেলেছেন তাঁদের বিপক্ষে। স্পোর্টসবুমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘সাদা বিদ্যুৎ’ নামে পরিচিতি এই প্রোটিয়া পেসার বলেন, ‘২০০০-এর শুরুর দিকে তাদের (অস্ট্রেলিয়া) বিপক্ষে খেলা আসলেই কঠিন ছিল। ম্যাকগ্রা, ওয়ার্ন, গিলেস্পি, ব্রেট লি—অসাধারণ একটা দল ছিল। তবে এখন তা পাল্টে গেছে।’
ম্যাকাইতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টিকে থাকার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মিচেল স্টার্ক। সিরিজে ১২ উইকেট নিয়ে পান সিরিজসেরার পুরস্কার। আর ডারউইনে প্রথম টেস্টে জশ হ্যাজলউডের ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও যখন সুযোগ পান, নিজের সেরাটা দেন। স্পোর্টসবুমকে ডোনাল্ড বলেন, ‘আমি দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের অপেক্ষায় আছি। স্টার্ক, হ্যাজলউড ও কামিন্স—অস্ট্রেলিয়ার এই তিন পেসারই বিশ্বসেরা।’
২৪, ২৭ ও ৩০ সেপ্টেম্বর হবে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের তিন ওয়ানডে। প্রথম ওয়ানডে হবে ডারবানে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডের ভেন্যু জোহানেসবার্গ ও পচেফস্ট্রুম। সাদা বলের সিরিজ শেষে এরপর দল দুটির লড়াই লাল বলের ক্রিকেটে। ৯ অক্টোবর ডারবানে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। যা দুই দলের জন্যই ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
১৮ অক্টোবর পোর্ট এলিজাবেথে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। তৃতীয় টেস্ট কেপ টাউনে মাঠে গড়াবে ২৭ অক্টোবর। ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের প্রথম তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের সফলতার হার ৮০, ৭৫ ও ৭২.২২ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়া কদিন আগে ঘরের মাঠে ১-১ সমতায় টেস্ট সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশের বিপক্ষে।