২৩ বছর আগে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিল বাংলাদেশ। সেবার দলটির সঙ্গী ছিল দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হার। তবে দ্বিতীয়বার সফরেই বাজিমাত করল বাংলাদেশ। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জিততে বাংলাদেশের লাগল ২৩ বছর।
এত কম সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলো। অজিদের ঢেরায় লাল বলের প্রথম ম্যাচ জিততে ৫২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল প্রোটিয়াদের। নিউজিল্যান্ডের লেগেছিল ৪২ বছর। এশিয়া তথা বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ভারত ৩০ বছর অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। সেখানে বেশ আগেই প্যাট কামিন্সদের দেশে তাদেরকেই হারের তিক্ত স্বাদ দিল বাংলাদেশ; তাও আবার দ্বিতীয় সফরেই।
এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কা তো এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদই পায়নি। সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়েছিল লঙ্কানরা। সবমিলিয়ে সাতবার ক্যাঙ্গারুদের দেশে সফর করে ১৫ টেস্ট খেলেছে শ্রীলঙ্কা। একবারও কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পাওয়া হয়নি তাদের।
দাপট দেখিয়েই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সাড়ে তিন দিনের ১১ সেশনের সবকটিতেই ছড়ি ঘুরিয়েছে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে অজিদের ২৮৪ রানে গুঁড়িয়ে দেয় শান্তরা। এর আগে প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষকে ১৯৮ রানে অলআউট করার পথে সবকটি উইকেটই নেন পেসাররা। সবচেয়ে বেশি ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০১ রান। এ ছাড়া শান্ত ৮৪ ও মিরাজ খেলেন ৬৫ রানের ইনিংস। এই চিত্রই বলছে, দলগত পারফরম্যান্সেই অস্ট্রেলিয়া বধ করেছে বাংলাদেশ। কামিন্সদের বিপক্ষে সপ্তম টেস্টে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল তারা।