বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের শেষটা মনে রাখাই মতোই হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র দুই দিনেই সফরকারীদের ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়েছে প্যাট কামিন্সের দল। পিছিয়ে পড়েও সমতায় সিরিজ শেষ করার পর এবার অজিদের চোখ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে।
আগামী অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে ওঠার পথে এই সিরিজটি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাকাইতে বাংলাদেশকে লজ্জার হার উপহার দেওয়ার পথে বড় ভূমিকা রেখেছেন কামিন্স। ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ নিয়েই ভাবছেন অধিনায়ক। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী মাসে তাদের সিরিজটি ২০২৭ সালে দ্য ওভালে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টের ফাইনালের সম্ভাব্য মহড়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সবশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় অস্ট্রেলিয়া। প্রোটিয়াদের নিয়ে তাই সতর্ক অবস্থানে কামিন্স। তিনি বলেন, ‘তারা শক্তিশালী দল। কয়েক বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের বিপক্ষে আমাদের বড় একটি সিরিজ হয়েছিল। সেখানে আমরা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছিলাম, দারুণ খেলেছিলাম। এরপর গত বছর লর্ডসে তারা আমাদের জবাব দিয়েছে এবং সেখানে আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনও অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলের মাত্র ছয়জন খেলোয়াড়ের দেশটিতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে—কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, নাথান লায়ন, স্টিভ স্মিথ ও ম্যাট রেনশ। সবশেষ ২০১৮ সালের সফরে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলেছিলেন তাঁরা।
ডারবান, গকেবেরহা ও কেপটাউনে হবে তিনটি টেস্ট। আসন্ন সিরিজে তাই আলাদা চ্যালেঞ্জ দেখছেন কামিন্স, ‘এমন জায়গায় আমরা অনেক দিন টেস্ট ক্রিকেট খেলিনি, তাই কন্ডিশন কিছুটা অজানাই থাকবে। ডারবান ও কেপটাউনের মধ্যেও উইকেটের ধরনে বেশ পার্থক্য থাকতে পারে। এটা দারুণ হবে। টেস্ট ক্রিকেট খেলার এটাই তো মজা—ভিন্ন কন্ডিশন, ভিন্ন প্রতিপক্ষ, বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে খেলা।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে তিনটি ওয়ানডে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও তিনটি ওয়ানডে খেলবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তবে ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেও ওয়ানডে সিরিজে খুব বেশি খেলতে চান না কামিন্স। ২০২৩ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনি ওয়ানডে খেলেছেন মাত্র দুটি।
এই প্রসঙ্গে কামিন্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, অন্তত কিছু ম্যাচে আমি থাকব। এটা বলা উচিত কি না জানি না, তবে মূল মনোযোগ টেস্ট সিরিজেই। তাই সামনে যে সাদা বলের ম্যাচগুলো আছে, সেগুলো আমরা লাল বলের ক্রিকেটকে সামনে রেখেই খেলব। ছয়টি ওয়ানডের মধ্যে সম্ভবত এক, দুই কিংবা সর্বোচ্চ তিনটি ম্যাচ খেলব।’