কলম্বোতে সদ্য সমাপ্ত ভারত-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ এমনিতেই আলোচনায় সোনাল দিনুশার বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে। তাঁর অনবদ্য সেঞ্চুরিতে (১৩৩*) শ্রীলঙ্কা হেরে যাওয়া ম্যাচ ড্র করেছে ভারতের বিপক্ষে। তবে দিনুশাই নন, ভারতীয় বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিংও এসেছে আলোচনায়। সুনীল গাভাস্কার এখানে বোলারদের পাশাপাশি কোচদেরও শাস্তি চেয়েছেন।
ভারত-শ্রীলঙ্কা সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে দুই আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত ও আহসান রাজার অনেক ব্যস্ত সময় গেছে। ক্রিকেটারদের আবেদনে সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি রিভিউর সিদ্ধান্তও বদলাতে হয়েছে। একই সঙ্গে নো বলের সংকেতও তাঁদের দিতে হয়েছে বারবার। যেখানে কলম্বো টেস্টে দুই ইনিংস মিলে ভারত ১৩ নো বল করেছে। যার মধ্যে সারানশ জৈন করেছেন ৭ নো বল এবং রবীন্দ্র জাদেজা চারবার বোলিং ক্রিজ অতিক্রম করেছেন।
টেস্টে নো বল করলে শাস্তি হিসেবে ফ্রি হিট চালুর পরামর্শ দিয়েছিলেন ভারতীয় স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। তবে বাহুতুলের কথার সঙ্গে কোনোভাবেই একমত হতে পারছেন না গাভাস্কার। নো বল ঠেকাতে বিশেষ এক টোটকা দিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি। ভারতের সংবাদমাধ্যম মিড-ডেতে লেখা কলামে গাভাস্কার বলেন, ‘প্রত্যেক নো বলের ভুলের জন্য দ্বিগুণ জরিমানা করা হলে সেটা কেমন হবে! বোলিং কোচের ওপর জরিমানা করা হবে অর্ধেক। এই টাকা ছেলেরা ডিনারের জন্য খরচ করতে পারে।’
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নো বলের জন্য ফ্রি হিট চালু করা হয়েছে অনেক আগে থেকেই। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাটাররা রানের বন্যা বইয়ে দেন। যদিও মাঝেমধ্যে তাঁরা ব্যর্থ হয়ে থাকেন। তবে টেস্টে নো বলের পরিবর্তে ফ্রি হিট ব্যবস্থা আসেনি।
সাদা বলের ক্রিকেটের মতো যদি টেস্টেও নো বল করলে ফ্রী হিট চালু করা হয়, তাতে ব্যাটাররা বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করেন গাভাস্কার। ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক বলেন, ‘দয়া করে টেস্টে এমন ব্যবস্থা চালু করে ব্যাটারদের রান করা সহজ করে দেবেন না। এমনিতেই ওভারে সীমিত আকারে দুইবার বাউন্সার দেওয়া, বাউন্ডারির সীমানা ছোট করায় ব্যাটারদের অনেক সুবিধা হয়েছে।’
কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে ভারত। ২০২৫-২৭ চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ১১ টেস্টে ৫ জয়, ৪ হার ও ২ ড্রয়ে ভারতের এখন ৬৮ পয়েন্ট। ৫১.৫২ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে পাঁচে অবস্থান করছে ভারত। তাদের ঠিক ওপরে রয়েছে বাংলাদেশ। ৫৫.৫৬ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের দল অবস্থান করছে চারে। প্রথম তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের সফলতার হার ৮০, ৭৫ ও ৭২.২২ শতাংশ।