লর্ডস টেস্টের একাদশে থাকলেও খেলারই সুযোগ পাননি ইমাম-উল-হক। মাংসপেশির চোটে পড়ায় কোনো ইনিংসেই ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি তিনি। তবে তাঁর চোট নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে সংবাদমাধ্যমে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা।
শর্টস পরে, পায়ে মেডিকেল টেপ লাগানো অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ইমামের হাঁটার ছবি ভাইরাল হওয়ার পর চলছে আলাপ-আলোচনা। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপারের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বাঁহাতি এই ওপেনারকে লন্ডন থেকে প্রথম ফ্লাইটেই পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে। দ্বিতীয় টেস্টে মাংসপেশিতে যে চোট পেয়েছেন, সেটা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবার ইমামের চোটের ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তান যখন ৩৮৯ রান তাড়ার লক্ষ্যে খেলছিল, সে সময় তাঁর ব্যাটিং করতে না পারার ব্যাপারটিও তদন্ত করা হবে।
২৭ থেকে ৩০ আগস্ট লর্ডসে হয়েছে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম দিনই মাংসপেশিতে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন ইমাম। বাঁহাতি এই ব্যাটারের চোটের ধরন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারও দাবি করেছেন, তাঁর সমস্যাটি হয়তো সত্যিকারের ছিল না। তবে এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ইমামের চোট নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডের মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ব্রডের মতে চোট গুরুতর হলে ইমাম জনসমক্ষে না এসে আড়ালে থেকেই পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার কার্যক্রম চালাতে পারতেন। চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে এক আলোচনায় ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার বলেছিলেন, ‘সবই এসব লোক দেখানো। মিডিয়া, সতীর্থ বা অন্য কারও কাছ থেকে সে হয়তো কিছুটা সমালোচনা পেয়েছে। আপনি চাইলে এমন একটি ইনডোর স্কুলে গিয়ে এসব করতে পারেন, যেখানে কেউ আপনাকে দেখবে না। শর্টস পরে, পায়ে একটু টেপ লাগিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটার কোনো মানে হয় না।’
পিসিবি ইমামের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে আসল চোট খুঁজে বের করবে। কেন দুই ইনিংসের কোনোটিতেই ব্যাটিং করতে পারেননি, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। বাঁহাতি এই ব্যাটার খেলতে না পারায় ৯ উইকেট পড়াতেই পাকিস্তান অলআউট হয়েছে। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে জিতে ইংল্যান্ড এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে।
হেডিংলির পর লর্ডসে হেরে টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে তারা জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ।