২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দী ইমরান খান। তখন থেকে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালেই পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। এবার তাঁর কারামুক্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ইংল্যান্ডের এক সংবাদমাধ্যমে।
সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ইমরান ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী হয়েছেন। তাঁর বন্দিদশা ও সম্ভাব্য মুক্তির বিষয়টি এতটাই সংবেদনশীল যে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা হচ্ছে বলে একটি সূত্র ‘দ্য অবজারভারের’ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী পাকিস্তানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার শেষ হওয়া অতীব জরুরি।
ইমরানের ব্যাপারে মাঝে তো মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। ‘দ্য অবজারভার’কে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তানি কিংবদন্তির দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান বলেন, ‘বাবাকে সাত মাসের বেশি সময় ধরে একঘরে করে রাখা হয়েছে। এই দীর্ঘ কারাবাসে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছে বলে আমাদের আশঙ্কা। স্বাধীনভাবে কথা বলা তো দূরে থাক, নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগও হচ্ছে না।’
ইমরান খানের স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’কে তিনি বলেন, ‘তাঁকে (ইমরান) সম্পূর্ণ নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। বোন, পরিবারের সদস্য কিংবা আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন। সরকারের মধ্যে ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকলে স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।’
পাকিস্তানের উত্তরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের এক নির্জন কক্ষে বন্দী ‘কয়েদি নম্বর ৮০৪’ ব্যক্তিই ইমরান খান। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান। মাঠের পাকিস্তানের ক্রিকেটেও গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। এ বছরের ফেব্রুয়ারি সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, মাইক আথারটনসহ কিংবদন্তিরা তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতিতে উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তান সরকারকে একটি দীর্ঘ চিঠি দিয়েছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান।